সরকারে থাকা অবস্থায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে জনগণ বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে ক্ষমতা হারালে বিএনপিকেই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির সূচনায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘জুলাই সনদকে অক্ষরের চক্করে ফেলে সরকার জনগণের সঙ্গে টক্কর খেলতে চায়। গণরায় বাস্তবায়ন না করলে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেওয়া চার কোটি জনতার মঞ্চ সংগঠিত করা হবে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর নয়, সম্ভব হলে আপনি নভেম্বরেই দেশে ফিরে আসুন। জুলাইয়ের ক্ষত এখনো আমাদের মনে দগদগে ঘায়ের মতো হয়ে আছে। আপনি যত দ্রুত দেশে ফিরবেন, তত দ্রুত এই ঘা শুকানো বা নিরাময়ের পথ তৈরি হবে।’
এ সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আরও রক্তের প্রয়োজন হলে তা উৎসর্গ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সরকারের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়েও সমালোচনা করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সরকার এক কোটি মানুষের চাকরি বা কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আওয়ামী লীগের ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তিনি এই প্রতিশ্রুতির তুলনা করেন।
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার শতাধিক কারখানা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, ‘সরকার গত আট মাসে কারও চাকরি দেওয়া তো দূরের কথা, বরং এমপি মিষ্টি ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের চাকরি নট করে দিয়েছে। আইজি আলী হোসেন ফকির ও নাটোরের এমপি আব্দুল আজিজের চাকরির অবস্থাও নড়বড়ে।’
বিএনপির শাসনামলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রাণহানির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম এক বছরে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৮ জন নিহত হয়েছিলেন। এবার বিএনপি ক্ষমতায় আসার আট মাসের মধ্যেই নিজেদের স্বার্থের দ্বন্দ্বে ৪০ জন মারা গেছেন। এ জন্যই আমরা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করি।’
সাত দফা দাবি মেনে না নিলে অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি যেসব কর্মসূচি নিয়েছিল, একই ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মঞ্জু।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারসংকট নিরসন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনসহ সর্বস্তরে বৈষম্য দূরীকরণের সাত দফা দাবিতে শনিবার সকাল ৮টায় খুলনা-কুষ্টিয়ার উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় লংমার্চ শুরু হয়।
লংমার্চের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সূচনা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
এবি পার্টির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান এবং মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম