ক্লাসের ফাঁকে এক শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা সেলাই করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা। দূর থেকে সেই দৃশ্যের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বেরীকান্দি বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ মানবিক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) খাইরুন নাহার লিপি নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রধান শিক্ষিকার এমন কর্মকাণ্ডের ছবি ও বর্ণনা দিয়ে পোস্ট করা হয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তা শেয়ার করে প্রধান শিক্ষিকার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।
কালবেলার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি বিদ্যালয়টির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানিয়েছেন, এমন মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধান শিক্ষিকা নাইলা আগে থেকেই এলাকায় পরিচিত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বরাবরই তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক।
সহকারী শিক্ষিকার ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও পাঠদান-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তাঁর নজরে আসে, এক শিক্ষার্থীর গায়ের জামাটি ছেঁড়া। বিষয়টি দেখার পর কাউকে দিয়ে কাজটি করানোর অপেক্ষা না করে নিজেই সুঁই-সুতো ও কাঁচি হাতে নিয়ে জামাটি সেলাই করে দেন।
পোস্টে খাইরুন নাহার লিপি লেখেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুরো বিদ্যালয় পরিচালনা করেন প্রধান শিক্ষিকা নাইলা। তবে এদিন তাঁকে দেখা গেছে ভিন্ন এক রূপে। এক শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা চোখে পড়তেই প্রশাসনিক গাম্ভীর্য সরিয়ে রেখে নিজেই সুঁই-সুতো হাতে বসে পড়েন। পরম মমতায় সেলাই করে দেন শিক্ষার্থীর জামাটি।
তিনি আরও লেখেন, শিক্ষাঙ্গন কেবল চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি যত্ন ও ভালোবাসার একটি পরিবার। প্রধান শিক্ষিকা নাইলা তাঁর কাজের মাধ্যমে সেটিই আবারও প্রমাণ করেছেন। এমন মানবিক ও অসাধারণ একজন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারাকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মন্তব্যে প্রধান শিক্ষিকার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। নানা নেতিবাচক ঘটনা ও সমালোচনার মধ্যে শিক্ষকদের এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সামনে আসা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অনেকে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম