কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়েছে। গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরপর তিনটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের খরচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।
পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করে পুনরায় সংযোগ নিতে হলে গ্রাহকদের নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক টাকা জমা দিতে হয়। ফলে চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে জানা গেছে, গত এক মাসে উপজেলার লৎসর, ঠেংগারবাম ও খানাতুয়া এলাকায় পরপর তিনটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ লৎসর গ্রামে বৈদ্যুতিক তার চুরির কারণে উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার ও লৎসর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠান দুটিকে প্রায় ৪৩ হাজার টাকা খরচ করে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে হবে। অথচ বিদ্যালয়ের তহবিলে এ ব্যয় বহনের মতো অর্থ নেই।
এদিকে সংঘবদ্ধ চোর চক্র রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে মূল্যবান তামার তার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করছে। এতে লাখ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন গ্রাহকরা।
লৎসর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘স্কুলের ফান্ডে কোনো টাকা জমা নেই। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে আমাদের চিঠি দিয়েছে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক টাকা দেওয়ার জন্য। কিন্তু এই টাকা স্কুলের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।’
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর মনোহরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম এ কে এম আজাদ বলেন, ‘চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করতে হলে গ্রাহকদের অর্ধেক টাকা জমা দিয়ে সংযোগ নিতে হয়। দ্বিতীয়বার চুরি হলে সম্পূর্ণ খরচ গ্রাহকদের বহন করতে হবে। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই চোরদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম