চট্টগ্রাম রেঞ্জজুড়ে অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক দিনে ৪৪৯ কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৩০৩ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ১২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও বিদেশি মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) পরিচালিত অভিযানের ২৪ ঘণ্টার ফলাফল সোমবার (২ নভেম্বর) গণমাধ্যমকে জানায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ২৪ ঘণ্টায় রেঞ্জের ১১ জেলায় বিভিন্ন অপরাধে মোট ৮৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১০১ জন, আগের মামলায় ৫১ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৪ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটজন রয়েছেন। এ ছাড়া কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৪৫ জন, পরোয়ানাভুক্ত ১১৮ জন এবং সাজা পরোয়ানাভুক্ত ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছে কুমিল্লায়। জেলাটিতে ২১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৭২, চাঁদপুরে ৪৯, লক্ষ্মীপুরে ২৫, নোয়াখালীতে ১৮, ফেনীতে ১৭, কক্সবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ জন করে, রাঙামাটিতে ১২, খাগড়াছড়িতে ছয় এবং বান্দরবানে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৭ জনকে। তাদের মধ্যে মাদক বহনের অভিযোগে দুজন এবং মাদক সেবনের অভিযোগে ৬৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আরও ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১২৩।
অভিযানে ১২ হাজার ৫৭৭টি ইয়াবা, ৮১ কেজি ৪০৫ গ্রাম গাঁজা, ১৫০ লিটার চোলাই মদ এবং ৬১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৪৬টি মাদক মামলা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩২ জনকে কারাদণ্ড এবং ২৮ হাজার ৬০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১১ সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে তিনজন, কুমিল্লায় দুজন, চাঁদপুরে দুজন, কক্সবাজারে একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন এবং লক্ষ্মীপুরে দুজন রয়েছেন।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম