গাজীপুর প্রতিনিধি | যোগফল অনলাইন
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাবাড়ী এলাকার আমবাগ মিতালী হাউজিংয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই রাস্তার ওপর ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রকৌশলগত তদারকি ছাড়া ড্রেন নির্মাণ করা হলে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল, পানি নিষ্কাশন এবং রাস্তার স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার জোন ৭ (কোনাবাড়ি) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব মোশারফ হোসেন সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক কাজটি বন্ধ করে দেন বলে জানান। পরবর্তী সময়ে ১৫ অক্টোবর উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে ১৮ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।
শুনানিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অপর পক্ষকে রাস্তা খনন ও ড্রেন নির্মাণের আগে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন গ্রহণ, নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং প্রকৌশল বিভাগের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুনানিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ না করে এবং রাস্তা খননের অনুমোদন গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই পরবর্তী সময়ে পুনরায় ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, কাজ চলাকালে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ক সুপারভাইজার নাসির হোসেনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১১৯ ধারায় নগরীর রাস্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। একই আইনের ১২০ ধারায় রাস্তা নির্মাণ ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে কর্পোরেশনের অনুমোদন ও নির্দেশনার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘সড়ক খনন অনুমতি পদ্ধতি’ অনুযায়ী, রাস্তা খননের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন, সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপের মাধ্যমে ফি নির্ধারণ এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের পর অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী মো. তারেক হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমোদন এখনো দেওয়া হয়নি এবং অনুমোদন পেতে সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৭ (কোনাবাড়ী) জোনের নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজরাতুন নাঈমার কাছে বিষয়টি জানানো হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।