পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। গত অক্টোবর মাসে বিভিন্ন অভিযানে ৪৪ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৩৫২ পিস ইয়াবা, ৫১১ গ্রাম গাঁজা, আড়াই লিটার বাংলা চোলাই মদ ও চার পিস মাদকদ্রব্যযুক্ত সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১০টি নিয়মিত মামলা, ১৮টি সামারি ট্রায়াল মামলা ও সাতটি নন-এফআইআর প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাইকগাছা থানা সূত্রে জানা যায়, অক্টোবর মাসজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২০ জনকে নিয়মিত মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৮টি সামারি ট্রায়াল মামলায় আরও ২৪ জনকে আটক ও বিভিন্ন পরিমাণের মাদক উদ্ধার করা হয় এবং তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এসব মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। একই সময়ে সাতটি নন-এফআইআর প্রসিকিউশন মামলায় আরও ২০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়। এসব মামলায় তাঁদের সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে। অপহরণ, চুরি ও চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযান। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি অক্টোবর মাসে অপহরণ, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায়ও একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা যায়, অক্টোবর মাসে পাইকগাছা থানায় ছয়টি অপহরণ মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছিনতাই হওয়া একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা থেকে সংবদ্ধ চোর চক্রের চুরি করা ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চক্রের দুজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় মূল হোতাকেও গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সংবদ্ধ চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার, চোরাই ভ্যান উদ্ধার এবং ভ্যানটি ক্রয়কারীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থানা পুলিশ। এসব ঘটনায় আরো ১৫ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয় হাজার পাঁচ জাল টাকা উদ্ধার পূর্বক প্রতারককে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম ও জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় পাইকগাছা থানা পুলিশ জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, চুরি, চাঁদাবাজি, জুয়াড়ি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানা পুলিশের এধরণের প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে।