মো: সজিব : গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিয়ের পাঁচ মাস পার না হতেই রিপন মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিষাক্ত পদার্থ সেবনের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে পারিবারিক কলহ এবং মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
নিহত রিপন মিয়া উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের হালুকাইদ গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে। প্রায় পাঁচ মাস আগে একই এলাকার মেজবা উদ্দিন মেজুর মেয়ে মাসুমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকেই সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকা, রান্না ও খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা এবং আলাদা সংসার করা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সেই বিরোধ আরও বাড়তে থাকে বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের ভাই বরকত অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইয়ের সংসারে আলাদা রান্নার বিষয়টি নিয়ে শাশুড়ি রুমা আক্তারের প্রভাব ছিল। একপর্যায়ে পারিবারিক সিদ্ধান্তে রিপন ও তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দেওয়া হয়। তবে পরিবারের মায়ের খাওয়া-দাওয়ার দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
বরকতের দাবি, পরবর্তী সময়ে এ বিষয়টি নিয়েও নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। এতে রিপন পারিবারিকভাবে নানা চাপের মধ্যে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী ও শাশুড়ির বিভিন্ন আচরণে রিপন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ নভেম্বর রিপন বিষাক্ত পদার্থ সেবনের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার দিন রিপনের শাশুড়ি রুমা আক্তার মেয়েকে নিতে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই বরকত।
তবে নিহতের স্ত্রী মাসুমা আক্তার ও শাশুড়ি রুমা আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রিপনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।