কক্সবাজারের উখিয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে বন বিভাগ। তবে দীর্ঘদিন ধরে খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল মেম্বার এখনো রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ড্রেজার জব্দ হলেও অভিযোগের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর-২০২৬) গভীর রাতে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকার তাজিমারখোলা খালে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনটি জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাজিমারখোলা খালে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল মেম্বারকে ঘিরে একটি চক্র। খাল থেকে উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী জমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
এদিকে বন বিভাগের অভিযানে ড্রেজার জব্দের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ড্রেজার মেশিন জব্দ করেই অভিযান শেষ করা যাবে না। বালু উত্তোলনের নেপথ্যে কারা রয়েছে, কারা এর অর্থায়ন, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে আরও অভিযোগ উঠেছে, জয়নাল মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা এড়াতে রাজনৈতিক তদবিরের চেষ্টা চলছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বনবিটের আওতাধীন তাজিমারখোলা খালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে থাইংখালী বিট অফিসের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদ, বনকর্মী আবদুল কাইয়ুম, ইলিয়াস, আলী আহমেদ, ইসমাইলসহ বিটের অন্যান্য কর্মচারীরা অংশ নেন।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, তাজিমারখোলা খালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে। বন ও পরিবেশের ক্ষতি করে কাউকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।