বগুড়া ও এর আশপাশের এলাকাকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সোমবার (৯ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বহুল প্রতীক্ষিত ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-১ প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বিলটি উত্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করবেন।
অনুমতি পাওয়ার পর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হবে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করা হবে।
জানা গেছে, এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৪তম বৈঠকে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদিত এ আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো বগুড়া অঞ্চলে অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ ঘটানো।
খসড়া আইন অনুযায়ী, বগুড়া সিটি করপোরেশন ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে একজন চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন করা হবে। এ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত সীমানার মধ্যে কোনো ভবন নির্মাণ বা উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করা যাবে না।
প্রস্তাবিত আইনে জলাশয়, নদী-নালা ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি অনুমোদনহীন নির্মাণ এবং জলাধার ভরাটের মতো অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ল্যান্ড রিঅ্যাডজাস্টমেন্ট ও ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্ট পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে অনুমোদন পেলেই দ্রুততম সময়ে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম