আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম বদলাল নাউরু
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পরিবর্তন করেছে। ঔপনিবেশিক আমলের পরিচয় থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে আনতেই দেশটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘নাওয়েরো প্রজাতন্ত্র’। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিচিতিমূলক কোড এবং নাগরিকদের পরিচয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন যাদের ‘নাউরুয়ান’ বলা হতো, এখন থেকে তাদের পরিচয় হবে ‘দিই–নাওয়েরো’।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যাডিয়াং দেশটির পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে প্রয়োজনীয় দুই দফা ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘নাউরু’ নামটি ব্যবহৃত হলেও স্থানীয় জনগণের কাছে দেশটি বরাবরই ‘নাওয়েরো’ নামে পরিচিত ছিল।
নাম পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেশটির জাতীয় উড়োজাহাজ ও জাহাজের নামও পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্র, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তাদের সরকারি নথি ও ওয়েবসাইটে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এর আগে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে এসওয়াতিনি এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে তুর্কিয়ে নাম গ্রহণ করে নিজেদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেয়। নাওয়েরোর সিদ্ধান্তও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাত্র ১২ হাজার জনসংখ্যার নাওয়েরো বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতার আগে দেশটি জার্মানি এবং পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনের অধীনে ছিল। ফসফেট খনির কারণে একসময় অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও নব্বইয়ের দশকে সেই শিল্পের পতনের পর দেশটি বড় ধরনের সংকটে পড়ে।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা নাওয়েরো সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যাডিয়াং বলেছেন, দেশের নতুন নাম গ্রহণ জাতীয় পরিচয়, ঐতিহ্য ও গৌরবের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন