খুঁজুন
সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

নরসিংদী কারাগার নির্মাণে ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নরসিংদী কারাগার নির্মাণে ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ

নরসিংদীর শিবপুরে নির্মাণাধীন নতুন জেলা কারাগারের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।

শিবপুর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় প্রায় ২০ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন নতুন জেলা কারাগারের কাজ শুরু হয় প্রায় তিন বছর আগে। পুরোনো কারাগারের ধারণক্ষমতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় বিশ্বাস ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পের কাজ চলাকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করেছে। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও সরেজমিন পরিদর্শনে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বাস্তবে সম্পন্ন কাজের তুলনায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা বেশি বিল কীভাবে পরিশোধ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুছার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন এ এস এম মুছা। তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ দেখছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কার্যত নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও বর্তমানে সহজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কাজের অগ্রগতি, বিল উত্তোলন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও পর্যালোচনা শুরু করেছে।

অনিয়মের অভিযোগের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দুই বছরের জন্য বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে সেই সুপারিশের চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে কত টাকা অতিরিক্ত বিল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে উত্তোলিত অর্থের কত অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ হয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগের পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুছার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনেরও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তিনি প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন।

এ বিষয়ে এ এস এম মুছার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনিও অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ তিনি আবারও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ দেখছে।

নতুন কারাগার নির্মাণকাজে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পুরোনো নরসিংদী জেলা কারাগারের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো কারাগারটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০০ জন। সেখানে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বন্দি রয়েছে। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ বন্দি থাকায় কারাগারে আবাসন, স্যানিটেশন, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি পুরোনো কারাগার এলাকার একটি বড় অংশ সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বন্দিদের পাশাপাশি কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন কারাগারটি দ্রুত নির্মাণ করে চালু করা গেলে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমানোর পাশাপাশি কারাগারের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তবে নির্মাণকাজে ধীরগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রাখা এবং বিল উত্তোলন নিয়ে ওঠা অভিযোগের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কারাগারের নির্মাণকাজ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজের পরিমাণ, পরিশোধিত বিল, নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী বাস্তব অগ্রগতি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায় যাচাই করা দরকার।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রকল্পের টেন্ডার নথি, কার্যাদেশ, চুক্তিমূল্য, প্রকল্পের সময়সীমা, কাজের পরিমাণ, মাপ বই, রানিং বিল, পরিশোধের ভাউচার এবং প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিলের বিপরীতে বাস্তবে ৩৫ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রকৃত হিসাব নির্ধারণে প্রকল্পের মাপ বই ও প্রকৌশলীদের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। অতিরিক্ত বিল পরিশোধ হয়ে থাকলে কার অনুমোদনে, কোন পর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের পর এবং কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে তা পরিশোধ করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

নরসিংদীর নতুন জেলা কারাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের ক্ষতি নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং অতিরিক্ত অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত অবস্থাও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাই প্রকল্পটির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি ও আর্থিক অডিট, কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই এবং বিল পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের মাধ্যমে জনসম্মুখে আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

যশোর বোর্ডে মানবিকে ধস, ১১ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যশোর বোর্ডে মানবিকে ধস, ১১ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে ফলাফলে বড় ধাক্কা এসেছে মানবিক বিভাগে। এ বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও পাসের হার নেমে এসেছে ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশে। একই সঙ্গে বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারাদেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। পরে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বোর্ডের সচিব (প্রেষণে) প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬৯ হাজার ৮৫ জন এবং ছাত্রী ৭১ হাজার ৯৭৯ জন। ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ছাত্রীদের ফলাফল তুলনামূলক ভালো হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।

অন্যদিকে মানবিক বিভাগের ফলাফল সবচেয়ে হতাশাজনক। এ বিভাগে মোট ৮৫ হাজার ২৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, শূন্য পাস করা ১১টি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তদন্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

ফলাফল বিশ্লেষণে বোর্ড সচিব বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ হলেও মানবিক বিভাগে তা ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ হওয়া উদ্বেগের বিষয়। বিভাগগুলোর ফলাফলের এই বৈষম্য কমাতে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এবারের ফলাফলেও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো করেছে। খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য।

এবার যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ হলেও যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। ফলে জাতীয় গড়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এ বোর্ড।

ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বগুড়ায় ৮২ পিস ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বগুড়ায় ৮২ পিস ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

বগুড়ার শাজাহানপুরে ৮২ পিস ইয়াবাসহ যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর পূর্বপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রাজু ইসলাম শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি নয় মাইল মণ্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাজাহানপুর থানার একটি দল জামালপুর পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। পরে মণ্ডল ট্রেডার্সের সামনে থেকে রাজু ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ৮২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, গ্রেপ্তার রাজু ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পানি জমে থাকায় খনন হয়নি খাল, ফেরত গেল সোয়া ২ কোটি টাকা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পানি জমে থাকায় খনন হয়নি খাল, ফেরত গেল সোয়া ২ কোটি টাকা

অতিবৃষ্টি ও খালে পানি জমে থাকায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের আত্রাই খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পাওয়া ২ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৫০৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সারা দেশে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে পীরগঞ্জের মিঠিপুর ইউনিয়নের আত্রাই খাল খননের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘আত্রাই বিল থেকে গোপালগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত ডোমজান খাল’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৫০ মিটার খাল খননের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুমজুড়ে টানা বৃষ্টি ও খালে পর্যাপ্ত পানি থাকায় নির্ধারিত সময়ে খননকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

কাজ শুরুর উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। পরে গত ১৬ জুলাই চালানের মাধ্যমে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা পুরো ২ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৫০৪ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ বলেন, অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে খননকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সরকারি বিধি অনুযায়ী বরাদ্দের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে ভবিষ্যতে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে খালটির খননকাজ সম্পন্ন করা হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম