খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘আওয়ারাপন ২’, তৃতীয় কিস্তির ইঙ্গিত ইমরান হাশমির

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘আওয়ারাপন ২’, তৃতীয় কিস্তির ইঙ্গিত ইমরান হাশমির

প্রায় দুই দশক পর বড় পর্দায় ফিরেছে ইমরান হাশমির জনপ্রিয় সিনেমা ‘আওয়ারাপন’-এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘আওয়ারাপন ২’। ১৪ আগস্ট মুক্তির পর প্রথম দিনেই বক্স অফিসে শক্তিশালী শুরু করেছে সিনেমাটি। মুক্তির প্রথম দিন ভারতে ছবিটির নেট আয় হয়েছে ২১ কোটি রুপি। বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ২০ লাখ রুপি।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দিনে ভারতে ৯ হাজার ৩৩টি প্রদর্শনীতে ‘আওয়ারাপন ২’-এর গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। দিল্লি-এনসিআরে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মুম্বাইয়ে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

একই দিনে মুক্তি পাওয়া সানি দেওল ও প্রীতি জিনতা অভিনীত ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-কেও ব্যবসায়িকভাবে পেছনে ফেলেছে ‘আওয়ারাপন ২’। প্রথম দিনে সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী আয় ছিল ৮ কোটি ৩৪ লাখ রুপি।

মুক্তির দ্বিতীয় দিনেও বক্স অফিসে দারুণ গতি ধরে রেখেছে ইমরান হাশমির সিনেমাটি। শনিবার বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনে ভারতে ছবিটির আয় হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ রুপি। ফলে ভারতে দুই দিনে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ২৭ লাখ রুপি।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই ‘আওয়ারাপন ২’ ভারতের বক্স অফিসে ৫০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আসছে ‘আওয়ারাপন ৩’?

দ্বিতীয় কিস্তির সাফল্যের মধ্যেই ‘আওয়ারাপন ৩’ নিয়ে দর্শকদের আশার খবর দিয়েছেন ইমরান হাশমি। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আওয়ারাপন’ নির্মাতাদের চেয়ে দর্শকদের সিনেমা বেশি। দর্শকদের ভালোবাসার কারণেই দ্বিতীয় কিস্তি নির্মিত হয়েছে।

এরপরই তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই ‘আওয়ারাপন ৩’ দর্শকদের সামনে আসবে। তবে এখন পর্যন্ত তৃতীয় কিস্তি নির্মাণের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আওয়ারাপন’ প্রথমে বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও পরবর্তী সময়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সময়ের সঙ্গে সিনেমাটি কাল্ট মর্যাদা পায়।

প্রায় ১৯ বছর পর নির্মিত দ্বিতীয় কিস্তিতে ইমরান হাশমির সঙ্গে অভিনয় করেছেন দিশা পাটানি, শাবানা আজমি, পুরাণ গাব্বি ও অনিরুদ্ধ রাওয়ালসহ অনেকে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নীতিন কক্কর।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

অটোরিকশায় বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণ গেল ২ যাত্রীর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অটোরিকশায় বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণ গেল ২ যাত্রীর

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার সোনালী ব্যাংক চত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম (৫০) এবং সিংগীমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ (৪৮)।

আহতরা হলেন—টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব বেজগ্রাম এলাকার আজিমউদ্দিনের ছেলে রশিদুল ইসলাম (৩৫), উত্তর সিংগীমারী এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে রবিউল ইসলাম এবং নিহত জহুরুল ইসলামের স্ত্রী রিনা বেগম (৪৬)।

প্রত্যক্ষদর্শী হারুন জানান, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বন্দর বাসস্ট্যান্ডের দিক থেকে একটি খালি ট্রাক দ্রুতগতিতে আসছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশা আসার পথে ট্রাকটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হিরণ মটরসের শোরুমে ঢুকে পড়ে।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশার যাত্রী আব্দুল মজিদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত জহুরুল ইসলামকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) চিকিৎসক আনারুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গৃহবধূ থেকে ‘আপসহীন নেত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গৃহবধূ থেকে ‘আপসহীন নেত্রী

বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ পথপরিক্রমায় কিছু নাম শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, সময়ের সঙ্গে তারা হয়ে ওঠেন একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম। একসময় সাধারণ এক গৃহবধূ হিসেবে সংসার ও সন্তান লালন-পালনেই যার ব্যস্ততা ছিল, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাকেই নামতে হয় রাজনীতির কঠিন ময়দানে। এরপর দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন, সংগ্রাম, কারাবরণ, রাষ্ট্রক্ষমতা ও বিরোধী দলের নেতৃত্ব—সবকিছু মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নারী নেত্রী।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন অবস্থান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখেও দৃঢ় থাকার কারণে তিনি অর্জন করেন ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি। তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবেও ইতিহাসে স্থান করে নেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুর পর এবারই প্রথম তার অনুপস্থিতিতে জন্মদিন পালিত হচ্ছে। জন্মদিনে তাকে স্মরণ করছেন বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জন্ম ও শৈশব

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর সেখানেই কাটে। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার পরিবার নিয়ে দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

দিনাজপুরেই খালেদা জিয়ার শৈশব ও শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কাটে। পাঁচ বছর বয়সে তাকে দিনাজপুরের সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে ভর্তি করা হয়। পরে দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৬৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন ব্যবসায়ী। মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন সমাজকর্মী। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন তৃতীয় সন্তান।

বিবাহ ও সংসার জীবন

১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট দিনাজপুরের মুদিপাড়ায় সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা খানম পুতুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর কর্মস্থলের কারণে তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতে হয়।

জিয়াউর রহমানের কর্মসূত্রে ১৯৬৫ সালে তিনি স্বামীর সঙ্গে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানেও অবস্থান করেন। তাদের দুই সন্তান—বড় ছেলে তারেক রহমান এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন খালেদা জিয়া সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। বরং দুই সন্তানকে মানুষ করা ও সংসার সামলানোতেই তার জীবনের বড় সময় কেটেছে।

মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলো

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ খালেদা জিয়ার জীবনেও নিয়ে আসে চরম অনিশ্চয়তা। স্বাধীনতার সূচনালগ্নে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। অন্যদিকে দুই সন্তানকে নিয়ে বিপদের মধ্যে পড়েন খালেদা জিয়া।

প্রথমদিকে তিনি চট্টগ্রামে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠলে সন্তানদের নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে এবং সেখান থেকে ঢাকায় আসেন। বিভিন্ন সময় স্বজন ও পরিচিতজনদের বাসায় আত্মগোপনে থাকার পর ১৯৭১ সালের ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীর একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পরে দুই সন্তানসহ তাকে পুরোনো সংসদ ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে ঢাকা সেনানিবাসের একটি বাসায় বন্দি রাখা হয়। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত তিনি সেনা হেফাজতেই ছিলেন।

স্বামীর মৃত্যু, বদলে গেল জীবন

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। মৃত্যুর আগের রাতে তিনি স্ত্রী খালেদা জিয়াকে ফোন করে পরদিন ঢাকায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। সেটিই হয়ে ওঠে তাদের শেষ কথা।

স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ২১ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান তাকে এক কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায়। তখনও রাজনীতিতে তার কোনো সক্রিয় ভূমিকা ছিল না।

কিন্তু জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি যখন নানা অভ্যন্তরীণ সংকট ও ভাঙনের মুখে পড়ে, তখন দলের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার দিকে তাকান।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির ময়দানে

১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিকভাবে ক্ষমতা দখল করলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। বিএনপির ভেতরেও দেখা দেয় বিভক্তি।

এই সময়ই অনেকটা আকস্মিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসেন। ১৯৮৩ সালে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ‘আপসহীন নেত্রী’

এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে গঠিত সাতদলীয় জোটের নেতৃত্বও দেন তিনি।

১৯৮৬ সালের বিতর্কিত নির্বাচন বর্জনসহ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার কঠোর অবস্থান তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। আন্দোলনের সময় তাকে একাধিকবার আটক করা হয়।

ক্রমেই তীব্র হতে থাকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে।

অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মুখে এরশাদের পতন ঘটে। স্বৈরাচারবিরোধী সেই আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তাকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। খালেদা জিয়া নিজে পাঁচটি আসনে নির্বাচন করে সবকটিতেই জয়ী হন।

১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

তার প্রথম মেয়াদে দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা, নারী কর্মসংস্থান, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তৈরি পোশাক খাতের সম্প্রসারণ ও নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বৃদ্ধিও ওই সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে উঠে আসে।

১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।

তবে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের আন্দোলন ও টানা হরতালের কারণে রাজনৈতিক সংকট তীব্র হয়। একপর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালুর দাবি জোরালো হলে খালেদা জিয়ার সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধন করে।

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি করেন তিনি।

১৯৯৬ সালের নির্বাচন ও বিরোধী দলীয় নেতৃত্ব

১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি সরকার গঠন করতে না পারলেও ১১৬টি আসন পেয়ে বড় বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

খালেদা জিয়াও পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। এরপর তিনি সংসদে বিরোধী দলের নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

চারদলীয় জোট ও তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী

১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোট জোটে যুক্ত হয়।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

এর মধ্য দিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া।

২০০১-২০০৬: তৃতীয় মেয়াদের সরকার

এই মেয়াদে নারী শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মেয়েদের শিক্ষায় উপবৃত্তি, বিনামূল্যে শিক্ষা, খাদ্য সহায়তা এবং নারী ক্ষমতায়নের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় খালেদা জিয়া ২৯তম অবস্থানে ছিলেন।

এক-এগারো ও কারাবরণ

২০০৬ সালে সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে।

একপর্যায়ে বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি এবং দল ভাঙার নানা প্রচেষ্টা শুরু হয়। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান।

খালেদা জিয়াকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার একটি বাড়িতে সাবজেল হিসেবে আটক রাখা হয়। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান।

২০০৮ সালের নির্বাচন ও বিরোধী দলের নেতৃত্ব

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় এবং বিরোধী দলে অবস্থান নেয়।

খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে জয়ী হন এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক সংকট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলন

পরবর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হয়। বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। এরপরও বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকে।

খালেদা জিয়াকে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক গ্রেপ্তার নিয়ে সে সময় দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মামলা ও কারাবাস

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাকে পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।

পরে জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলাতেও তাকে সাজা দেওয়া হয়। দীর্ঘ কারাবাস ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তিনি।

অসুস্থতা ও চিকিৎসা

কারাবন্দি থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কিডনি, লিভার, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় তিনি ভুগতে থাকেন।

তার চিকিৎসা নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার দাবিও জানায় বিএনপি ও তার পরিবার।

২০১৮ সালের নির্বাচন ও পরবর্তী আন্দোলন

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নেয়। নির্বাচনে বিএনপি জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে।

এরপর নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যায়।

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তির নতুন অধ্যায়

২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। একপর্যায়ে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। এরপর খালেদা জিয়ার মুক্তির পথও পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা, কারাবাস ও অসুস্থতার পর তিনি নতুন বাস্তবতায় ফিরে আসেন।

শেষ অধ্যায়

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া যেমন তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তেমনি একাধিকবার বিরোধী দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন। রাজপথের আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা—দুই ক্ষেত্রেই তার ছিল দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।

স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর যে নারী রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় তিনিই হয়ে ওঠেন বিএনপির অবিসংবাদিত নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা বিতর্ক, বিরোধ, মামলা, আন্দোলন ও সংকটের মধ্যেও তিনি দলের নেতৃত্ব ধরে রাখেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন এবং দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়।

তার মৃত্যুর পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার নাম, রাজনৈতিক অবস্থান ও দীর্ঘ সংগ্রামের অধ্যায় আলোচনায় রয়েছে।

গৃহবধূ থেকে ইতিহাসের অংশ

খালেদা জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি সম্ভবত এখানেই—যে নারী একসময় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনিই হয়ে ওঠেন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান। এরপর রাজপথের আন্দোলন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা—প্রতিটি অধ্যায়েই রেখে যান নিজের রাজনৈতিক ছাপ।

সমর্থকদের কাছে তিনি গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতীক, আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে ছিলেন দীর্ঘদিনের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থান যে গুরুত্বপূর্ণ, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, তিনবারের সরকারপ্রধান এবং ‘আপসহীন নেত্রী’ হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ পথচলাই বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গ্যাস-বিদ্যুতের স্থায়ী সংকট কাটাতে লাগবে দুই বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গ্যাস-বিদ্যুতের স্থায়ী সংকট কাটাতে লাগবে দুই বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে সমাধান করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট স্থায়ীভাবে মোকাবিলায় নতুন এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন, পাইপলাইন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হবে। এরপর ভাসমান পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের মাধ্যমে এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, পেট্রোনাসের সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় এই মুহূর্তে অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি সমাধানে কাজ করছেন।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বর্তমান সংকটের একটি বড় অংশ আগের পরিস্থিতির উত্তরাধিকার হিসেবে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা মৌসুমভেদে পরিবর্তিত হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। শীতকালে সেই চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমে আসে।

সম্প্রতি সংকট আরও তীব্র হওয়ার কারণ হিসেবে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একটি ইউনিটে গ্যাস ভরা সম্ভব হয়নি এবং অন্যটির একটি বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

তবে এরই মধ্যে একটি ইউনিটে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। অন্য ইউনিটের একটি বয়লারও মেরামত করা হয়েছে এবং আরেকটির মেরামতের কাজ চলছে।

দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এতে শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটও অনেকটা কমে আসবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। এসব অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের দৈনিক জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি। এর সঙ্গে গরম মৌসুমে চাহিদা বাড়ায় সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।