বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী পালনের অভিযোগে ১৫ আইনজীবী গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম নগরের একটি বাসা থেকে ১৫ জন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক উম্মে হাবিবা, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ইস্কান্দর মির্জা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শুভ আইচ, দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুজলা অন্তরা, নগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ, পার্থ প্রতিম নন্দী, যীশু রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান, আয়েশা হেভেন ও মো. জাকের হোসেন।
পুলিশের দাবি, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, উম্মে হাবিবার বাসায় ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার বিকেলে গ্রেপ্তারদের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত চার নারী আইনজীবী—কামেলা খানম, সুজলা অন্তরা, শারমিনা ইয়াসমিন ও আয়েশা হেভেনের জামিন মঞ্জুর করেন। অন্যদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন আলম জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
গত ১৭ বছরের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী
গত ১৭ বছরে দেশে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আধুনিক দশতলা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আইনজীবীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির রাজনীতি করার কারণে ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এমনকি এমন ব্যক্তিকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের রাজনীতি ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিচার বিভাগকে প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আগের সময়ে বিচার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ ছিল, তা থেকে বের হয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
১/১১-এর সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দেশ ছাড়লে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস এবং রাজনীতি থেকে সরে থাকার কথা বলা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে খালেদা জিয়া দেশ ছাড়েননি বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। অন্যদিকে, দেশের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে আরেক নেত্রী বিদেশে চলে গেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব নাগরিককে এসব কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি ব্যয় কমানোর উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর জন্য ঢাকায় ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা ২৮টি থেকে কমিয়ে চারটিতে আনা হয়েছে। এতে সরকারি ব্যয় কমার পাশাপাশি যানজটও কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন ব্যয়েও সংযমের উদাহরণ তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তার দাবি, বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে অন্যান্য দেশের তুলনায় শেষ দিকে তেলের দাম বাড়াতে।
আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। বরিশালে এসে আইনজীবীদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ ও সমস্যাগুলো কাছ থেকে উপলব্ধি করার কথাও বলেন তিনি।
এর আগে জেলা আইনজীবী সমিতির দশতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ ফারুক হোসেন এবং বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড
ছবিতে অভিযুক্তরা
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তিনটি মামলায় মো. আক্তার হোসেন আকাশকে (২৮) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, মিরাজকে (২৪) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা এবং মো. আরিফকে (২৭) ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে বেগমগঞ্জ মডেল থানার চৌমুহনী ফাঁড়ির এএসআই হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন