খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১ ভাদ্র, ১৪৩৩

বাবা নেই, তবু জন্মদিনে স্মৃতিতে আইয়ুব বাচ্চু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাবা নেই, তবু জন্মদিনে স্মৃতিতে আইয়ুব বাচ্চু

আয়ুব বাচ্চু নেই আট বছর। তবু ১৬ আগস্ট এলেই পরিবারে ফিরে আসে প্রিয় মানুষটির অসংখ্য স্মৃতি। একসময় এই দিনটি ঘিরে বাড়িতে থাকত কেক কাটার আয়োজন, পছন্দের খাবার আর স্বজন-বন্ধুদের আনাগোনা। এখন সেই মানুষটি নেই; আছে শুধু তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি আর গভীর শূন্যতা।

আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার, ছেলে আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব ও মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব প্রতিবছরই নিজেদের মতো করে বাবার জন্মদিন স্মরণ করেন। কেকও কাটেন। তবে সেই আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে না-পাওয়ার বেদনা ও চোখের পানি।

ছেলে আহনাফ তাজওয়ার স্ত্রীকে নিয়ে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে এবং মেয়ে ফাইরুজ সাফরা স্বামীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করেন। স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার বাংলাদেশে থাকেন এবং সুযোগ পেলে সন্তানদের কাছে গিয়ে সময় কাটান। দূরদেশে থাকলেও ১৬ আগস্ট এলেই তিনজনের মনেই ফিরে আসে একই মানুষ—তাদের ‘বাবুই’।

একসময় জন্মদিন মানেই ছিল উৎসব

বেঁচে থাকতে নিজের জন্মদিনে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করতেন আইয়ুব বাচ্চু। সন্তানরা ছোট থাকাকালে বাড়িতেই জন্মদিনের আয়োজন হতো। কেক কাটার পাশাপাশি রান্না হতো তাঁর পছন্দের খাবার।

পরবর্তীতে সন্তানরা বড় হলে জন্মদিনের আয়োজনের ধরনও বদলে যায়। স্টুডিওতে বন্ধু ও সংগীতজগতের সহযাত্রীদের সঙ্গে কেক কাটতেন তিনি। গান, আড্ডা ও আনন্দে জমে উঠত পুরো আয়োজন। একই সঙ্গে পরিবারের জন্য বাসাতেও খাবার পাঠিয়ে দিতেন।

তবে ২০০০ সালে আইয়ুব বাচ্চুর মা মারা যাওয়ার পর বদলে যায় জন্মদিন নিয়ে তাঁর অনুভূতিও। ফেরদৌস আক্তারের ভাষ্য, মা-অন্তঃপ্রাণ বাচ্চু এরপর আর আগের মতো জন্মদিন নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখাতেন না। আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে কেক কাটলেও দিনটিতে আগের মতো আনন্দ থাকত না।

সন্তানদের কাছে ছিলেন বন্ধুর মতো

আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে তাঁর ছেলে-মেয়ের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। দুজনকেই গিটার শেখানোর পাশাপাশি স্বপ্ন দেখতেন, একদিন সন্তানদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে গিটার বাজাবেন।

ছেলে তাজওয়ারকে বাবার সঙ্গে এক মঞ্চে গিটার বাজাতে দেখা গেলেও মেয়েকে নিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বাবাকে ‘বাবুই’ বলে ডাকতেন ফাইরুজ সাফরা।

বাবার স্মৃতিচারণ করে সাফরা জানিয়েছেন, মানুষ হিসেবে বাবাকে ঘরে যেমন দেখতেন, মঞ্চেও তাঁকে তেমনই আলাদা এক জগতে ডুবে যেতে দেখেছেন। ছোট্ট গিটার হাতে নিয়ে জ্যামিং করতে করতে তিনি যেন নিজের ভুবনে হারিয়ে যেতেন।

মেয়ের হাতেও গিটার তুলে দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সাফরা তখন ও লেভেলে পড়তেন। তাঁর জন্য একটি গিটার এনে দিয়ে বাবা বলেছিলেন, একদিন তিনি বাবার সঙ্গে মঞ্চে গিটার বাজাবেন। কিন্তু সেই দিন আর আসেনি।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর সন্তানদের জীবনের বড় অপূর্ণতাগুলোর একটি হয়ে থাকে বাবার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে একই মঞ্চে দাঁড়াতে না পারা।

জন্মদিনে আরও বেশি মনে পড়ে বাবাকে

সময়ের সঙ্গে সন্তানরা বড় হয়েছেন, নিজেদের সংসার গড়েছেন এবং দেশের বাইরে স্থায়ী হয়েছেন। তবুও বাবার স্মৃতি তাদের জীবন থেকে কখনো দূরে যায়নি।

১৬ আগস্ট এলেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পুরোনো গল্প উঠে আসে। ফোনে কথা বলার সময় বাবার প্রসঙ্গ উঠলে এখনও আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মা-সন্তানের কথোপকথনে ফিরে আসে আইয়ুব বাচ্চুর নানা স্মৃতি।

বাবা নেই, কিন্তু জন্মদিনে কেক কাটা এখনও বন্ধ হয়নি। তবে সেই কেকে আগের মতো উৎসবের উচ্ছ্বাস নেই। কেক কাটার পর কেউ নীরবে স্মৃতিতে ডুবে থাকেন, কারও চোখে আসে পানি। তারপর আবার সবাই ফিরে যান নিজেদের জীবনে।

গানে-গিটারে বেঁচে আছেন আইয়ুব বাচ্চু

এবারও আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করে প্রকাশিত হচ্ছে ‘উত্তরাধিকার’ শিরোনামের একটি অ্যালবাম। এতে তাঁর গাওয়া ২০টি গান নতুন সংগীতায়োজনে পরিবেশন করছেন দেশের বিভিন্ন ব্যান্ড ও একক শিল্পী।

অ্যালবামে দলছুট গেয়েছে ‘রুপালি গিটার’, আরবোভাইরাস ‘নীল বেদনা’, সোনার বাংলা সার্কাস ‘গতকাল রাতে’, শুভযাত্রা ‘চলো বদলে যাই’, ক্যালিপসো ‘চাঁদ মামা’, রকসল্ট ‘অচেনা জীবন’, ডোপামিন ‘মাধবী’ এবং এ কে রাহুল গেয়েছেন ‘মন চাইলে মন’। আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গান থাকছে একক শিল্পীদের কণ্ঠে। সব গানের মাস্টারিং করেছেন ইকবাল আসিফ জুয়েল।

শিল্পী চলে গেছেন, কিন্তু থামেনি তাঁর গান ও গিটারের সুর। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে বারবার ফিরে আসছে তাঁর সৃষ্টি। ভক্তদের ভালোবাসায় তিনি আজও বেঁচে আছেন।

পরিবারের কাছে অবশ্য তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় কিংবদন্তি গায়ক বা গিটারিস্ট নয়—তিনি এখনও তাদের কাছে সেই আপন মানুষ, ‘বাবুই’।

স্বপ্ন এগিয়ে নিতে ফাউন্ডেশন

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর তাঁর স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীলতার উত্তরাধিকার ধরে রাখতে কাজ করছে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন। ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করা এই ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় গত বছরের ৯ জুলাই।

আইয়ুব বাচ্চু শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর গান, গিটার এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে। আর তাই ১৬ আগস্ট শুধু তাঁর জন্মদিন নয়—ভক্ত ও পরিবারের কাছে এটি প্রিয় এক মানুষকে নতুন করে স্মরণ করার দিন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ইজারা ব্যবস্থা নিয়ে সিলেটে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের ১০ দফা দাবি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইজারা ব্যবস্থা নিয়ে সিলেটে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের ১০ দফা দাবি

ইজারা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ লেখক শিবির, সিলেট জেলা শাখা। সভা থেকে বালু, মাটি, পাথর ও পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি খালেদ উদ দীন এতে সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ ‘ইজারা ব্যবস্থা—প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখার সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম মকবুল, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের প্রবীণ রাজনীতিক সদস্য নুরুল হুদা সালেহ, সংগঠনের সিলেট জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি আকলিছ আহমেদ চৌধুরী, কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও সদস্য জুনেদ আহমেদ।

এ ছাড়া গোয়াইনঘাটের দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ, বাংলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মজনু মুহিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সদস্য শিরিন মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিল, সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মো. মুহিবুর রহমান এবং অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক শামসুল কিবরিয়াও বক্তব্য দেন।

প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও আইনের বাস্তব প্রয়োগের নানা দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ইজারা ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতি ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

গোয়াইনঘাটের দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে শান্তিগঞ্জের কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী উথাইরা গাং এলাকায় পরিবেশ বিপন্ন করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেন।

সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জনগণের সম্পদ বালু, মাটি, পাথর ও জলাশয়ের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।

নুরুল ইসলাম মকবুল ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয় তুলে ধরেন। সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন নদী-খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরেন। দোয়ারাবাজারের শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয়ভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের সঙ্গে ভূমিদস্যুতার অভিযোগের বিষয়ও আলোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে খালেদ উদ দীন বালু, মাটি, পাথর, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ বাতিল; বালু, মাটি, পাথর ও পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন; প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যক্তি খাতে ইজারা না দেওয়া; অভিযুক্ত ইজারাদারদের ব্যাংক হিসাব জব্দের ব্যবস্থা; হাইড্রোগ্রাফিক, ব্যাথিমেট্রিক ও নদীর গঠনগত সমীক্ষার ভিত্তিতে বালুমহাল ও জলমহালের সীমানা নির্ধারণ; বালু, মাটি, পাথর ও পানি উত্তোলন ও বিক্রয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া; এবং নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সভা শেষে এসব দাবি বাস্তবায়নে সংগঠিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে এআই ক্যামেরা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে এআই ক্যামেরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চালু হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে হাইওয়ে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্থানে মোট ১৯৯টি এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতি ও চলাচল সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে।

অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। আইন ভঙ্গের তথ্য শনাক্ত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এআইভিত্তিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ২০ বছর ধরে যাত্রী পরিবহন করা চালক আসলাম হোসেন এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্যামেরায় যানবাহনের চলাচলের ছবি ও তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে আইন ভাঙার পর তা অস্বীকার করার সুযোগ কমে যাবে। জরিমানাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ করতে হবে। তাই চালক ও গাড়ির মালিক—দুজনকেই আরও সচেতন হতে হবে।

ট্রাকচালক আবু তাহের বলেন, মহাসড়কে অনেক দুর্ঘটনার পেছনে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব দায়ী। এআই ক্যামেরার নজরদারি চালু হলে অতিরিক্ত গতির প্রতিযোগিতা কমবে এবং চালকদের আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব এক্সিডেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা কাজী আবদুর রাজ্জাক (রাশেদ) বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও এটি একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়লে চালকদের সচেতনতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনার সংখ্যাও অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোট ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা কাজ করবে। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশে থাকবে ১৯৯টি এআই ক্যামেরা।

তিনি বলেন, এআই ক্যামেরার নজরদারি চালু হলে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা বাড়বে। পাশাপাশি মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাইওয়ে পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ বা জরিমানা আদায় করাই এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নয়; মহাসড়কে নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক যান চলাচল নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে গেল বাস, স্কুলছাত্রী নিহত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে গেল বাস, স্কুলছাত্রী নিহত

ফেনীর দাগনভূঞায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস স্কুলফেরত শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সিলোনীয়া বাজার এলাকায় একটি স’মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম সুমাইয়া (১১)। সে জায়লস্কর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের মো. খোকনের মেয়ে এবং স্থানীয় সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় ‘ঢাকা-শরীয়তপুর এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে পড়ে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের নিচে চাপা পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের নিচে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সুমাইয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্টার লাইন স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে উত্তর আলামপুর গ্রামের মাইন উদ্দিন শিপন মিয়ার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা (১১) গুরুতর আহত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করে।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম