ইজারা ব্যবস্থা নিয়ে সিলেটে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের ১০ দফা দাবি
ইজারা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ লেখক শিবির, সিলেট জেলা শাখা। সভা থেকে বালু, মাটি, পাথর ও পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি খালেদ উদ দীন এতে সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ ‘ইজারা ব্যবস্থা—প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখার সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম মকবুল, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের প্রবীণ রাজনীতিক সদস্য নুরুল হুদা সালেহ, সংগঠনের সিলেট জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি আকলিছ আহমেদ চৌধুরী, কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও সদস্য জুনেদ আহমেদ।
এ ছাড়া গোয়াইনঘাটের দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ, বাংলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মজনু মুহিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সদস্য শিরিন মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিল, সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মো. মুহিবুর রহমান এবং অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক শামসুল কিবরিয়াও বক্তব্য দেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও আইনের বাস্তব প্রয়োগের নানা দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ইজারা ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতি ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
গোয়াইনঘাটের দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে শান্তিগঞ্জের কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী উথাইরা গাং এলাকায় পরিবেশ বিপন্ন করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেন।
সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জনগণের সম্পদ বালু, মাটি, পাথর ও জলাশয়ের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।
নুরুল ইসলাম মকবুল ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয় তুলে ধরেন। সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন নদী-খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরেন। দোয়ারাবাজারের শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয়ভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের সঙ্গে ভূমিদস্যুতার অভিযোগের বিষয়ও আলোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে খালেদ উদ দীন বালু, মাটি, পাথর, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ বাতিল; বালু, মাটি, পাথর ও পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন; প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যক্তি খাতে ইজারা না দেওয়া; অভিযুক্ত ইজারাদারদের ব্যাংক হিসাব জব্দের ব্যবস্থা; হাইড্রোগ্রাফিক, ব্যাথিমেট্রিক ও নদীর গঠনগত সমীক্ষার ভিত্তিতে বালুমহাল ও জলমহালের সীমানা নির্ধারণ; বালু, মাটি, পাথর ও পানি উত্তোলন ও বিক্রয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া; এবং নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সভা শেষে এসব দাবি বাস্তবায়নে সংগঠিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন