খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

কক্সবাজারের জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কক্সবাজারের জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

 যোগফল প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আরিফকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাবলিক মোড় এলাকার আবুল খায়ের কোম্পানির স্টারশিপ ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. আরিফ কক্সবাজার সদর উপজেলার তেতৈয়া এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। তিনি জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৭ ও র‍্যাব-১৫-এর যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় জাহাঙ্গীর হত্যা মামলা রয়েছে।

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার আরিফের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

শিক্ষিকা রনজিনা নিহতের ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শিক্ষিকা রনজিনা নিহতের ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

 যোগফল প্রতিবেদক:

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইয়ের সময় রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা রনজিনা পারভিন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বসিলায় র‍্যাব-২ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

তিনি জানান, তেজগাঁও থানার পূর্ব তেজতুরি বাজার এলাকা থেকে মোশারফ হোসেন পনি ওরফে প্যারা পনি এবং তার সহযোগী সেড্রিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

র‍্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, নিহত শিক্ষিকার স্বামী ও মামলার বাদী সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে না পারলেও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মোশারফ হোসেন পনি ওরফে প্যারা পনি একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসংক্রান্ত ১৩টি মামলা রয়েছে। র‍্যাবের প্রাথমিক ধারণা, প্যারা পনি ও সেড্রিক মোটরসাইকেলে করে রনজিনা পারভিনের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত।

মোটরসাইকেলের মালিক রাকিব র‍্যাবকে জানিয়েছেন, তার মোটরসাইকেলটি পনি নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাকিবের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক।

এর আগে ২৯ আগস্ট ভোরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় রনজিনা পারভিনের ব্যাগ ধরে টান দেয় ছিনতাইকারীরা। এতে তিনি রিকশা থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশও একজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের অধিকার, আসছে নতুন বিধান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের অধিকার, আসছে নতুন বিধান

 যোগফল প্রতিবেদক:

সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের নামে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারেন, সে সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রস্তাবিত বিধান কার্যকর হলে সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর হলেও দলিলে শর্ত সাপেক্ষে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে। বিশেষ করে প্রবীণ বাবা-মা সন্তানদের নামে বসতবাড়ি বা অন্যান্য সম্পত্তি দান করার পরও যেন তা ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়টি আইনি সুরক্ষার আওতায় আসবে।

গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ-সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন ১২২ক ও ১২২খ ধারা সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের পৃথক একটি পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

কারা কাকে সম্পত্তি দিতে পারবেন

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। একইভাবে নাতি-নাতনিরাও বাবা-মা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।

স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের দান নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে করতে হবে।

দানের পরও থাকবে ব্যবহার ও ভোগের অধিকার

প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পত্তি দানের সঙ্গে সঙ্গে দাতার ভোগদখলের অধিকার শেষ হবে না। দলিলে যদি আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করতে পারবেন।

অর্থাৎ কোনো বাবা সন্তানের নামে নিজের বাড়ি দান করলেও দলিলে যদি তার আজীবন বসবাসের অধিকার রাখা হয়, তাহলে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওই বাড়িতে থাকতে পারবেন।

এমনকি দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তির গ্রহীতা মারা গেলেও দাতার অধিকার নষ্ট হবে না। গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে সম্পত্তির মালিকানা গেলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে।

বিশেষ প্রয়োজনে পরিবর্তনের সুযোগ

প্রস্তাবিত আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে দাতার ভোগদখলের অধিকার পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক কিংবা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

প্রচলিত হেবা বা দান বহাল থাকবে

নতুন ব্যবস্থা চালু হলেও প্রচলিত দান বা মুসলিম আইনের হেবা বাতিল হবে না। সাধারণ দান, হেবা এবং আইনস্বীকৃত অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতিও আগের মতো বহাল থাকবে।

প্রস্তাবিত নতুন বিধানটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক পদ্ধতি হিসেবে যুক্ত হবে এবং সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

সরকারের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের নামে সম্পত্তি দান করার পরও যেন দাতা নিজের বসতবাড়ি বা সম্পত্তির ব্যবহার থেকে বঞ্চিত না হন।

বিলটি বর্তমানে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। সংসদে বিলটি পাস হয়ে আইন হিসেবে কার্যকর হলে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের জন্য নতুন আইনি সুরক্ষা তৈরি হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

চোখের চিকিৎসায় ঢাকায় এসে প্রাণ গেল শিক্ষিকার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চোখের চিকিৎসায় ঢাকায় এসে প্রাণ গেল শিক্ষিকার

 যোগফল প্রতিবেদক:

চোখের চিকিৎসা শেষে আর বাড়ি ফেরা হলো না বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনের। চিকিৎসা করাতে ঢাকায় গিয়ে সড়কে ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান তিনি। পরে মরদেহ নিয়ে ফিরতে হয়েছে স্বজনদের।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকায় স্বামী আব্দুল মতিন ও একমাত্র মেয়ে রাইসা আক্তারকে নিয়ে বসবাস করতেন।

নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন জানান, চোখের চিকিৎসার জন্য শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বাসে করে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারা। শনিবার ভোরে রিকশায় করে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেন।

এ সময় রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রনজিলা। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার রাতে তার মরদেহ বগুড়ায় পৌঁছায়। রোববার (৩০ আগস্ট) বাদ জোহর বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ আসর তরফসরতাজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় যে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, শেষবারের মতো সেখানেই প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। রোববার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল শোকের পরিবেশ। প্রধান শিক্ষকের চেয়ারটি ফাঁকা পড়ে থাকলেও তাকে ঘিরে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতি যেন বারবার ফিরে আসছিল।

সহকারী শিক্ষক মেহেনাজ আফরীন ও মাছুমা খাতুন বলেন, রনজিলা পারভীন নিয়মিত সবার আগে বিদ্যালয়ে আসতেন এবং নিজে ক্লাস নিতেন। তিনি শুধু প্রধান শিক্ষকই ছিলেন না, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। তার এমন মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না।

শিক্ষার্থী ইকবাল ও রাকিব জানায়, রনজিলা ম্যাডাম তাদের অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং সহজভাবে পড়া বুঝিয়ে দিতেন।

নিহতের মেয়ে রাইসা আক্তার বলেন, ‘আমার মতো আর কেউ যেন এভাবে মা-হারা না হয়। আমি মায়ের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চাই।’

নিহতের স্বামীও এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রনজিলা পারভীন ১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘ চাকরিজীবনে পদোন্নতি পেয়ে তিনি বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম