খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

৪৫ বছর পর জিয়া হত্যার তদন্তে মোজাফফরের ফোনে নতুন সূত্র

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৪৫ বছর পর জিয়া হত্যার তদন্তে মোজাফফরের ফোনে নতুন সূত্র

 যোগফল প্রতিবেদক:

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর পুনঃতদন্তে নতুন কিছু সূত্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তারের পর তার মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ বছর ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।

ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার সময় ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন মোজাফফর। হত্যাকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর প্রক্রিয়াতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মোজাফফর গ্রেপ্তারের পর জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অনেক অমীমাংসিত বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সময় কার কী ভূমিকা ছিল, ঘটনার আগে ও পরে কার সঙ্গে কার যোগাযোগ ছিল এবং দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মোজাফফর কীভাবে দেশে ফিরলেন—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

পুনঃতদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, মোজাফফরের সঙ্গে দেশ ও দেশের বাইরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব যোগাযোগের পেছনে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তিনি কীভাবে দেশে প্রবেশ করেছেন, কার সহায়তায় অবস্থান করেছেন এবং কার পৃষ্ঠপোষকতায় আর্থিক লেনদেন করেছেন—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জিয়াউর রহমান হত্যার পর তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুরের মৃত্যুর ঘটনাও পুনঃতদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রেপ্তারের পর মঞ্জুরকে কেন এবং কার সিদ্ধান্তে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, জিয়াউর রহমান হত্যার ঘটনাটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ঘটলেও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের বেশ কিছু বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। মেজর জেনারেল মঞ্জুর কীভাবে নিহত হন, তার মরদেহের ময়নাতদন্ত কে করেছিলেন এবং ওই সময়কার বিভিন্ন নথি ও প্রতিবেদনে কী তথ্য ছিল—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, তৎকালীন জীবিত সেনা কর্মকর্তা ও তাদের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, গোয়েন্দা প্রতিবেদন, অভ্যন্তরীণ নথি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিবেদন একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পেছনের উদ্দেশ্য বের করার চেষ্টা চলছে। ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সেটিও তদন্তের অংশ।

তদন্তে আরও একটি কথিত ‘সিক্রেট পেপার’-এর বিষয় সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ওই নথিটি খুঁজে বের করার চেষ্টা হয়েছিল—এমন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। নথিটি কী ছিল এবং সেটি নিয়ে কেন এত আগ্রহ ছিল, তা জানতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

এদিকে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির ও ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের ভূমিকার বিষয়টিও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ প্রসিকিউটর।

পুনঃতদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

চুরির ভোট, রাতের ভোট এ দেশে আর হবে না: হুইপ অপু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চুরির ভোট, রাতের ভোট এ দেশে আর হবে না: হুইপ অপু

যোগফল প্রতিবেদক:

চুরির ভোট, রাতের ভোট এ দেশে আর হবে না। জনগণ এবার নিজের ভোট নিজে দেবেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকার নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা সভায় অংশ নেন।

হুইপ অপু বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে জনগণের ভোটে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্বাচিত করবেন। কোনো ধরনের ভোট চুরি, কারচুপি কিংবা রাতের ভোটের সুযোগ এবার থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘চুরির ভোট, রাতের ভোট—এ দেশে আর হবে না। জনগণ নিজের ভোট নিজে দেবে। যাকে যোগ্য মনে করবে, ভোট দিয়ে তাকেই নির্বাচিত করবে।’

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হুইপ অপু বলেন, বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শুধু দলীয় কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে যেতে হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাদের সমস্যার কথা শুনতে হবে এবং সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রত্যেককে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। জনগণের কাছে নিজেদের যোগ্যতা ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূলে অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে দলীয়ভাবে যাচাই-বাছাই শেষে যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে দলের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে হবে।

হুইপ অপু বলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। দল যাকে প্রার্থী ঘোষণা করবে, সবাইকে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের আস্থা অর্জন করা।’

এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য এখন থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

মতবিনিময় সভায় গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

দুবাই গিয়েও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পেলেন না অভিনেত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুবাই গিয়েও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পেলেন না অভিনেত্রী

 যোগফল প্রতিবেদক:

ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে পাড়ি দেওয়ার পরও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না অভিনেত্রী মান্দানা করিমি। তার অভিযোগ, দেশ বদলালেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পাঠানো রহস্যময় ই-মেল এখনো তার পরিচিতজনদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

অভিনেত্রীর দাবি, এসব ই-মেলে কখনো তাকে নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে, আবার কখনো টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা এই সাইবার হয়রানি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন সাবেক ‘বিগ বস’ প্রতিযোগী মান্দানা।

মান্দানা জানান, তার বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই অজ্ঞাতপরিচয় একজন ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছেন বলে তিনি মনে করেন। শুধু তাকে নয়, তার সঙ্গে কাজ করা প্রযোজক, সহ-অভিনেতা ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছেও বিভিন্ন বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এসবের উদ্দেশ্য তার কাজ, সম্পর্ক ও সামাজিক পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত করা বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, ছুটিতে থাকার সময়ও একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কয়েক বছর আগে এসব ঘটনার উৎস খুঁজে বের করতে ব্যক্তিগতভাবে তদন্তের চেষ্টা করেছিলেন। তখন তাকে জানানো হয়, একজন পেশাদার হ্যাকারকে ব্যবহার করে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নজরদারি করা হচ্ছে।

মান্দানার দাবি, ‘মীনাক্ষী’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তার পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ই-মেল পাঠানো হচ্ছে। ভারত ছাড়ার পরও সেই যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এখনো তার বন্ধুদের কাছে ওই ধরনের ই-মেল পৌঁছাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ পরিস্থিতিতে পরিচিতদের সতর্ক করে মান্দানা বলেছেন, তাকে ঘিরে কোনো ই-মেল পেলে যেন কেউ তাতে বিশ্বাস না করেন বা টাকা পাঠান। বরং বার্তাটি সংরক্ষণ, স্ক্রিনশট নেওয়া এবং তার কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

অভিনেত্রীর অভিযোগ, ভারতে থাকাকালে একাধিকবার সাইবার অপরাধের অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। এবার তাই প্রকাশ্যে বিষয়টি তুলে ধরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই হয়রানির বিরুদ্ধে আর নীরব থাকতে চান না বলেও জানিয়েছেন মান্দানা।

মান্দানার ব্যক্তিগত জীবনেও অতীতে নানা টানাপোড়েন ছিল। ব্যবসায়ী গৌরব গুপ্তের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২০১৭ সালে বিয়ে করেন তিনি। কয়েক বছরের দাম্পত্যের পর ২০২১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

চলতি বছর প্রায় ১৬ বছর ভারতে থাকার পর দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মান্দানা। নতুন জীবন শুরুর আশায় দুবাইয়ে পাড়ি জমালেও পুরোনো সাইবার হয়রানি এখনো তার পিছু ছাড়েনি বলে অভিযোগ তার।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

দুবাই গিয়েও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পেলেন না অভিনেত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুবাই গিয়েও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পেলেন না অভিনেত্রী

 যোগফল প্রতিবেদক:

ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে পাড়ি দেওয়ার পরও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না অভিনেত্রী মান্দানা করিমি। তার অভিযোগ, দেশ বদলালেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পাঠানো রহস্যময় ই-মেল এখনো তার পরিচিতজনদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

অভিনেত্রীর দাবি, এসব ই-মেলে কখনো তাকে নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে, আবার কখনো টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা এই সাইবার হয়রানি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন সাবেক ‘বিগ বস’ প্রতিযোগী মান্দানা।

মান্দানা জানান, তার বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই অজ্ঞাতপরিচয় একজন ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছেন বলে তিনি মনে করেন। শুধু তাকে নয়, তার সঙ্গে কাজ করা প্রযোজক, সহ-অভিনেতা ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছেও বিভিন্ন বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এসবের উদ্দেশ্য তার কাজ, সম্পর্ক ও সামাজিক পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত করা বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, ছুটিতে থাকার সময়ও একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কয়েক বছর আগে এসব ঘটনার উৎস খুঁজে বের করতে ব্যক্তিগতভাবে তদন্তের চেষ্টা করেছিলেন। তখন তাকে জানানো হয়, একজন পেশাদার হ্যাকারকে ব্যবহার করে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নজরদারি করা হচ্ছে।

মান্দানার দাবি, ‘মীনাক্ষী’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তার পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ই-মেল পাঠানো হচ্ছে। ভারত ছাড়ার পরও সেই যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এখনো তার বন্ধুদের কাছে ওই ধরনের ই-মেল পৌঁছাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ পরিস্থিতিতে পরিচিতদের সতর্ক করে মান্দানা বলেছেন, তাকে ঘিরে কোনো ই-মেল পেলে যেন কেউ তাতে বিশ্বাস না করেন বা টাকা পাঠান। বরং বার্তাটি সংরক্ষণ, স্ক্রিনশট নেওয়া এবং তার কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

অভিনেত্রীর অভিযোগ, ভারতে থাকাকালে একাধিকবার সাইবার অপরাধের অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। এবার তাই প্রকাশ্যে বিষয়টি তুলে ধরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই হয়রানির বিরুদ্ধে আর নীরব থাকতে চান না বলেও জানিয়েছেন মান্দানা।

মান্দানার ব্যক্তিগত জীবনেও অতীতে নানা টানাপোড়েন ছিল। ব্যবসায়ী গৌরব গুপ্তের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২০১৭ সালে বিয়ে করেন তিনি। কয়েক বছরের দাম্পত্যের পর ২০২১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

চলতি বছর প্রায় ১৬ বছর ভারতে থাকার পর দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মান্দানা। নতুন জীবন শুরুর আশায় দুবাইয়ে পাড়ি জমালেও পুরোনো সাইবার হয়রানি এখনো তার পিছু ছাড়েনি বলে অভিযোগ তার।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম