তরুণদের মন জয়ে মোদির নতুন কৌশল
যোগফল প্রতিবেদক:
নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভের প্রভাব এবার ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে দিল্লির শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সে যেতে পারেন মোদি। কলেজটির শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে সেখানে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়েরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথাও শুনতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলনটি একপর্যায়ে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় আসে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও ছিল আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে ককরোচ জনতা পার্টি। তবে আন্দোলন শেষ হলেও পরীক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষাব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে বিজেপির তরুণদের কাছে পৌঁছানোর নতুন উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় সমাবেশ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগকে এরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস এবং মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এগোনোর পর ককরোচ জনতা পার্টি ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিল বাতিল করেছে। তবে আন্দোলন ঘিরে তরুণদের মধ্যে যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে, সেটি বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর তাই শুধু শতবর্ষ পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা নয়, তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ক্ষোভ ও প্রত্যাশা শুনে তাদের কাছে নতুন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন মোদি।
বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মনোভাব বিবেচনায় আগামী দিনের রাজনীতিতে এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বিজেপির জন্য কতটা কার্যকর হয়, সেটিও এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন