টাইমস স্কয়ারে ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
যোগফল প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্টিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী এরিন সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেছিলেন। তিনি একটি নবজাতক সন্তানের মা ছিলেন।
ঘটনার পর ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে এরিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এরিন ব্যাংক অব আমেরিকার বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রিও অর্জন করেন।
হামলার মাত্র চার দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও নবজাতক সন্তানের সঙ্গে হাসিমুখের একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন এরিন। সেখানে তিনি মাতৃত্বকালীন পাঁচ মাসের ছুটি পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই পোস্টে সন্তানের নামকরণ এবং স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, টাইমস স্কয়ারে এক নারী হঠাৎ এরিনের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। একই ঘটনায় ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে পুলিশ হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করে। তার নাম পামেলা সিসনেরোস, বয়স ৪৯ বছর। তিনি কুইন্সের বাসিন্দা ছিলেন। হামলার পর পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সিসনেরোসকে ঘিরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনায় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। তবে নিউইয়র্ক সিটিতে তার কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।
সিসনেরোসের ভাই প্যাট্রিক পেরালতা জানান, তার বোন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তিনি কখনো আগ্রাসী ছিলেন না। নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন এবং গত কয়েক বছর তুলনামূলক ভালো ছিলেন। মাঝেমধ্যে আইনি অফিসেও কাজ করতেন বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি এমন একটি এলাকায় ঘটেছে, যেখানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয় এবং কড়া পুলিশি নিরাপত্তা থাকে। হামলার স্থানটি একটি পুলিশ স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে গত মে মাসেও টাইমস স্কয়ার এলাকায় ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছিলেন।
এরিন পিয়াচেন্টির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ খতিয়ে দেখছে নিউইয়র্ক পুলিশ।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন