শিবপুরে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় ছেলে গ্রেপ্তার
যোগফল প্রতিবেদক:
নরসিংদীর শিবপুরে পৈতৃক বাড়িতে বাবাকে ধারালো ছুরি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে শাকিল চৌধুরীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত বাছেদ মিয়া (৬০) পেশায় কবিরাজি ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন। তিনি শাকিল চৌধুরীর বাবা। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাছেদ মিয়া তার বড় ছেলে শাকিলকে নিয়ে একই কক্ষে ঘুমাতে যান।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টার দিকে বাছেদ মিয়ার আর্তনাদ শুনে তার ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ (২১) ও তার মা ছুটে যান। এ সময় শাকিল কুড়ালের উল্টো পাশের লোহার অংশ দিয়ে তার মায়ের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। বাধা দিতে গেলে ছোট ভাই নূর নবী রাশেদকেও আঘাত করা হয়।
পরে ঘরের বাতি জ্বালিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, বাছেদ মিয়া খাটের ওপর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার পেটের দুই পাশ দিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে ছিল। স্বজনরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শাকিল তাদেরও আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাছেদ মিয়ার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানার এসআই কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় অফিসার ইনচার্জ কোহিনুর মিয়া ও সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে নিহতের পেট থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়ালটি আসামির বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গাজীপুর মেট্রো এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে গাজীপুরের পূবাইল থানাধীন হায়দারাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পূবাইল থানা পুলিশের সহায়তায় শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল তার বাবাকে ছুরি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন