বেলকুচিতে বিআরডিবি'র ব্যবস্থাপনা কমিটির ফলাফল ঘোষণা
ছবি যােগফল প্রতিনিধি
ছবি যোগফল
গাজীপুরে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করে কোনো রকমে দিন কাটছে ফজিলা বেগমের। স্বামীকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারানোর পর ভেঙে যায় তাঁর সংসার। দ্বিতীয় বিয়েও টেকেনি। একসময় সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন দেখা এই নারী এখন জীবিকার তাগিদে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করছেন। তবু নিয়মিত কাজ না থাকায় খাবার ও বাসাভাড়া জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা ফজিলা বেগমের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। পরে দ্বিতীয় বিয়ে হলেও সেই সংসারও ভেঙে যায়। একপর্যায়ে ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। এদিকে বিয়ের পরবর্তী পরিস্থিতিতে সন্তানদের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়। মেয়েকে নিজের উদ্যোগে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বড় ছেলে মায়ের খোঁজখবর নেয় না বলে জানান ফজিলা।
বর্তমানে গাজীপুরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। প্রতিদিন কাজ মেলে না। কাজ পেলে দৈনিক মজুরি পান ৪০০ টাকা। মাসে ১০ দিন কাজ করতে পারলে আয় হয় মাত্র ৪ হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই বাসাভাড়া ও খাবারের খরচ চালাতে হয় তাঁকে।
ফজিলা জানান, বিধবা ভাতা পান না, স্বামীর বাড়ি থেকেও কোনো সহযোগিতা পান না। সন্তানদের কাছ থেকেও নেই আর্থিক সহায়তা। ফলে যেদিন কাজ পান, সেদিন খাবার জোটে; আর কাজ না থাকলে অনাহারেই কাটে দিন।
নিজের জীবনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফজিলা। তাঁর ভাষায়, সংসার ছিল, স্বামী ছিলেন, সন্তানদের নিয়ে স্বপ্নও ছিল। কিন্তু স্বামীর মৃত্যু, দ্বিতীয় সংসার ভেঙে যাওয়া এবং সন্তানদের দূরে সরে যাওয়ায় জীবনের সবকিছু যেন হারিয়ে গেছে।
গাজীপুরের একটি মসজিদের নির্মাণকাজ চলাকালে ইটের ওপর বসে থাকা ফজিলার সঙ্গে কথা হয় তথ্য সংগ্রহকারী মোঃ মাহাবুবুর রহমানের। তাঁর পরনে ছিল ময়লা কাপড়, হাতে লেগে ছিল বালির দাগ। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পেটের দায়ে তাঁকে প্রতিদিন কাজের সন্ধানে থাকতে হয়।
ফজিলার মতো অনেক নারীই স্বজনদের সহযোগিতা ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে কঠিন জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো, সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া এবং অসহায় মানুষের খোঁজ রাখা সমাজের সবার দায়িত্ব।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
আপনার মতামত লিখুন