খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

বাউবির ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন, চালু হলো নতুন ইনস্টিটিউট

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাউবির ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন, চালু হলো নতুন ইনস্টিটিউট

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বাউবির প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা ও সাতটি স্কুলের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে পায়রা অবমুক্তকরণ ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, চিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষ হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য শুধু সনদ দেওয়া নয়; বরং শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ৩৪ বছরের অর্জন, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অবদান নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতির মানোন্নয়ন, পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধার কার্যকর ব্যবহার, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বাউবির ‘ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং’ (আইটিভিইটি) উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নয়জন শিক্ষার্থীকে প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থীকে তাঁর কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ৩৪ বছরের পথচলায় বাউবি একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম থেকে বর্তমানে ৫৫টি প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীসংখ্যা বৃদ্ধি বা সনদ প্রদানের পাশাপাশি জ্ঞাননির্ভর, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ, দক্ষতাভিত্তিক ও উদ্ভাবনমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আইটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্রাফিক ডিজাইন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কোরিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক উৎকর্ষ বৃদ্ধি, ডিনস কমিটি গঠন, বন্ধ হয়ে যাওয়া জার্নাল পুনরায় চালু এবং ডিজিটাল লার্নিং ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে।

উপাচার্য বলেন, বাউবির অন্যতম শক্তি হলো জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ, যার মাধ্যমে বয়স নির্বিশেষে মানুষ শিক্ষার আওতায় আসতে পারে। তাই শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য। প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অগ্রণী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাউবি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য সবার জন্য মানসম্মত ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। গত ৩৪ বছরে কর্মজীবী মানুষ, নারী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, গবেষণা ও উদ্ভাবন বৃদ্ধি এবং কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাউবিকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বাউবির অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রথম চ্যান্সেলর বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে মানসম্মত, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাউবির প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানও বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার টি এম আহমেদ হুসেইন।

এ সময় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার, বাউবির শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তাহিরপুরের পাতারগাঁও খেয়াঘাটে টাকা আদায় বন্ধের নির্দেশ ইউএনওর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তাহিরপুরের পাতারগাঁও খেয়াঘাটে টাকা আদায় বন্ধের নির্দেশ ইউএনওর

ছবি যোগফল

আমির হোসেন ।। সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর–পাতারগাঁও খেয়াঘাটে পারাপারের নামে টাকা আদায় সম্পূর্ণ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ টাকা আদায় করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের ফলে খেয়াঘাট ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী জানান, বুধবার থেকে পাতারগাঁও খেয়াঘাটে খেয়া পারাপারের নামে টাকা আদায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ টাকা আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, খেয়াঘাটে টাকা আদায় বন্ধের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর। তবে প্রশাসনের এ নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে খেয়াঘাটে টাকা আদায় স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন।

তবে ঘোষণার পর খেয়াঘাটে টাকা আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গোপালগঞ্জ শহর সমাজসেবা অফিসের সেমিনার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গোপালগঞ্জ শহর সমাজসেবা অফিসের সেমিনার
সাইফুল ইসলাম ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি


চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বমানের উদ্যোক্তা তৈরি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃজনে গোপালগঞ্জ শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের অংশীদারিত্ব শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের মধুমতি সম্মেলন কক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ শহর সমাজসেবা কার্যালয় এ সেমিনারের আয়োজন করে। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন  সমাজসেবা অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক  মুহাম্মদ মুরাদ হোসেন। 

সেমিনারের আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) শোভন সরকার ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মিজানুর রহমান। 

গোপালগঞ্জ শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা আল আমিন মোল্লা সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন।

বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত- এসএম জিলানী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত- এসএম জিলানী

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

সাইফুল ইসলাম ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে ও বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে জামায়াত বিরোধী দলের আসনে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গওহরডাঙ্গা চৌরঙ্গী মোড়ে আয়োজিত যুব সমাবেশে তিনি একথা বলেন। 

এসএম জিলানী বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে ও বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে জামায়াত বিরোধী দলের আসনে বসেছে। ভেবেছিলাম সংসদের বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু তাদের মুখে একটা, অন্তরে আরেকটা। একাত্তরের পরাজিত শক্তি সংসদে দাঁড়িয়ে এক কথা বলে, আর সংসদের বাইরে গিয়ে আরেক কথা বলে। 

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিএনপি সরকারের সৃষ্টি নয়। অথচ সংসদের বাইরে এসে এই সংকটের জন্য সরকারের পতনের দাবি তোলা হচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে লংমার্চও শুরু করেছে তারা। কিন্তু তাদের বোঝা দরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে সংকট মোকাবিলার জন্য ন্যূনতম সময় দেওয়া উচিত। তারপর আপনারা আন্দোলন করেন। কারন আমরা ১৭ বছর তারেক রহমানের নেতৃত্বে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। সেই আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এসএম জিলানী গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে বলেন, বিগত ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার আমদানিনির্ভর গ্যাসের ওপর নির্ভর করেছে। বঙ্গোপসাগরে থাকা গ্যাসকূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে ১৫০টি গ্যাসকূপের মধ্যে ৩০টির কাজ শুরু করেছে। বাকি ১২০টির কাজও শিঘ্রই শুরু হবে। 

যুব সমাবেশে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মুক্তার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী আবুল বাশার খায়ের, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন, সহ-সভাপতি জিল্লাল শেখ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সরকার সহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।