খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬ চাষে ব্যাপক সাফল্য

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬ চাষে ব্যাপক সাফল্য
সাইফুল ইসলাম ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রচলিত আমন ধানের চেয়ে বেশি ফলন পেয়ে গোপালগঞ্জের কৃষকদের মধ্যে বিনা ধান-২৬ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি আমন মৌসুমে এ জাতের ধান আবাদ করে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৩২ মণ ফলন পেয়েছেন সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের শুকতাইল গ্রামের কৃষক মহব্বত আলী। অথচ আগে প্রচলিত জাতের ধান চাষ করে একই জমিতে বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ১৮ মণ ফলন পেতেন তিনি। ফলন বেশি হওয়ায় মহব্বত হোসেন এখন আমন চাষে আরও আশাবাদী হয়েছেন। 

শুধু মহব্বত হোসেন নন, বিনা ধান-২৬ আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের আরও ৪০০ জন কৃষক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জালালাবাদ ইউনিয়নের কৃষক মো. শহীদ সর্দার ও মো. ইলিয়াসসহ অনেকে। ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা দেখে আগামী আমন মৌসুমেও এ জাতের ধান চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। 

পাশাপাশি আশপাশের অনেক কৃষকও বিনা ধান-২৬ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। 
এই সাফল্যকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম শুকতাইল গ্রামের কৃষক মহব্বত হোসেনের জমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনা ধান-২৬-এর মাঠ দিবস ও ফসল কর্তন কর্মসূচি। মাঠে পাকা ধান কেটে ফলন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে এ জাতের ধান চাষের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মামুনুর রহমান, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের ইনচার্জ ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রশীদ, এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজ আক্তারসহ জালালাবাদ ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক কৃষক। 

বিনা- গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের ইনচার্জ ড. হারুন অর রশীদ জানা, চলতি বছর গোপালগঞ্জের ৪০০ জন কৃষককে বিনা ধান-২৬-এর বীজ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা এ জাতের ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। এই ধানের জীবনকাল কম ১২০ দিন, এছাড়া, জলাবদ্ধতা ও রোগবালাই সহনশীল । এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.৫ থেকে ৭ টন। মাঠপর্যায়ে এ সাফল্য নতুন কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করছে। ফলে আগামী আমন মৌসুমে এ জাতের আবাদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মামুনুর রহমান বলেন, বিনা ধান-২৬ মাঠ দিবসে ফসল কর্তন করে কৃষক মহব্বত হোসেনের জমিতে হেক্টরপ্রতি ৬.২ টন ফলন পেয়েছি, যা এ অঞ্চলে আমন চাষীদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এই ধানের জাতটিতে রোগ-বালাই কম এবং জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু। এই ধানের আবাদ বৃদ্ধি করতে পারলে কৃষক লাভবান হবেন। 

কৃষক মহব্বত হোসেন জানান, আগে প্রচলিত জাতের আমন ধান চাষ করে বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ১৮ মণ ফলন পেয়েছেন। কিন্তু এবার বিনা ধান-২৬ আবাদ করে পেয়েছেন সাড়ে ৩২ মণ ধান। এতে তাঁর ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। বেশি ফলন পাওয়ায় আমন ধান চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহও বেড়েছে। আগামী মৌসুমেও তিনি এ জাতের ধান আবাদ করতে চান। 

কৃষকদের মতে, একই জমিতে তুলনামূলক বেশি ফলন পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচের তুলনায় আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। মহব্বত আলীর জমিতে ভালো ফলন দেখে আশপাশের কৃষকেরাও বিনা ধান-২৬ চাষের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এ জাতের ধান চাষের মাধ্যমে আমন মৌসুমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিকাজে লাভের সম্ভাবনাও বাড়বে। 

গোপালগঞ্জের সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার জানান, মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী ও ফসল কর্তন কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন জাতের ধানের ফলন সম্পর্কে কৃষকদের সরাসরি ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে কৃষকেরা নিজেদের জমি ও চাষের পরিবেশ অনুযায়ী উপযোগী জাত বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬-এর এই সাফল্য স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃষকদের আগ্রহ অব্যাহত থাকলে আগামী আমন মৌসুমে এ জাতের আবাদ সম্প্রসারিত হতে পারে, যা জেলার ধান উৎপাদন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করবে।

পাইকগাছায় চিংড়ি চাষিদের সঙ্গে মৎস্য সচিবের মতবিনিময়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় চিংড়ি চাষিদের সঙ্গে মৎস্য সচিবের মতবিনিময়

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় বাগদা চিংড়ি চাষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের ছালুবুনিয়ায় বাগদা চিংড়ি ক্লাস্টারের চাষিদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায়।

সভায় সার্বিক পরিচালনা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক। এ সময় ছালুবুনিয়া বাগদা চিংড়ি ক্লাস্টারের চাষিবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে বাগদা চিংড়ি চাষের বিদ্যমান সমস্যা, উৎপাদন বৃদ্ধি, চাষের আধুনিক পদ্ধতি এবং এ খাতের উন্নয়ন ও সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চাষিদের সঙ্গে আলোচনা করেন মৎস্য সচিব।

এমপির গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এমপির গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোক্তাদির ওরফে মুত্তাকিনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার গোলাম মোক্তাদির মামলার ৮ নম্বর এবং আলমগীর হোসেন ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা-পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা সদরের ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে একটি ক্যাফে ফাস্টফুডে অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলমগীর হোসেন (২৫) উপজেলার রনতিথা গ্রামের বাবলুর ছেলে।

অন্যদিকে, গোলাম মোক্তাদির ওরফে মুত্তাকিন (৪২) উপজেলার গুনগাতী গ্রামের মোশাররফ আকন্দের ছেলে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই রাতেই রায়গঞ্জ থানায় মামলা করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে।

এদিকে, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াত। উপজেলা জামায়াতের আমির আলী মর্তুজা ও সেক্রেটারি এস এম মুনসুর আলী এক বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করার বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তাঁরা।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্য আয়নুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দায়ী করে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি।

এনসিপির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) হযরত আলী উসমান এক বিবৃতিতে বলেন, তদন্ত ছাড়াই এ ঘটনায় এনসিপির নেতাকর্মীদের দোষারোপ করা হয়েছে। তিনি হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম


গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জেরে আইনজীবী দম্পতিকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জেরে আইনজীবী দম্পতিকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাদক মামলায় নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মো. জাকির হোসেন ফরাজী (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট বিকেলে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছৈলাবুনিয়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আইনজীবী মো. সামিউল আলম ও তাঁর স্ত্রী মোছা. শাহনাজ পারভীন (৩৫) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। একটি মাদক মামলায় তিনি আইনজীবী মো. সামিউল আলমকে নিয়োগ করেন। ওই মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ৯ জুন ধার্য তারিখে জাকিরের পক্ষে আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পুলিশের দাবি, নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানতে পেরে আইনজীবী সামিউল আলমের ওপর ক্ষুব্ধ হন জাকির। ঘটনার দিন সামিউল আলম ছৈলাবুনিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে জাকির অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে সেখানে যান। পরে তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সামিউল আলমকে কুপিয়ে জখম করেন।

এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে তাঁর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। আহত দুজনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর মির্জাগঞ্জ থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রযুক্তির সহায়তায় জাকিরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর জাকির এক জায়গায় দীর্ঘ সময় অবস্থান না করে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। এ কারণে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগে। পরে শনিবার দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা-পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মির্জাগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে। হামলার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না কিংবা হামলাকারীদের কেউ সহায়তা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামির সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম