খুঁজুন
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

হাওয়াইয়ের কিলাউইয়া আগ্নেয়গিরিতে নতুন রেকর্ড: ৪৮তম অগ্ন্যুৎপাত পর্বের সূচনা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হাওয়াইয়ের কিলাউইয়া আগ্নেয়গিরিতে নতুন রেকর্ড: ৪৮তম অগ্ন্যুৎপাত পর্বের সূচনা

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কিলাউইয়া আগ্নেয়গিরি ১ জুন ভোরে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই অগ্ন্যুৎপাতটি চলমান পর্বগুলির মধ্যে ৪৮তম হিসেবে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে, যা আগ্নেয়গিরিটির দীর্ঘস্থায়ী কার্যকলাপের এক নতুন মাইলফলক।

স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই সুবিখ্যাত এই আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা নির্গমন শুরু হয়, যা এর চলমান অগ্ন্যুৎপাত সিরিজের সাম্প্রতিকতম সংযোজন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতাহাতি: ফিফার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতাহাতি: ফিফার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা


বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির পর স্পেনের উদ্‌যাপন ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার আচরণ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মাঠে যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। জড়িত খেলোয়াড় বা কোচরা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন; জরিমানা হতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেরও।

কিন্তু এই তদন্তের খবর শুধু ম্যাচ-পরবর্তী বিশৃঙ্খলার গল্প নয়। এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে; ফাইনালের সবচেয়ে বড় রাতে আর্জেন্টিনার কী হয়েছিল? বাংলাদেশের কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থক যে দলকে চেনেন; শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো, আবেগকে শক্তিতে পরিণত করা, মেসির এক ঝলকে ম্যাচ বদলে দেওয়া; সেই আর্জেন্টিনা কেন স্পেনের বিপক্ষে দেখা গেল না?

বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ বাঁশির পর স্পেনের খেলোয়াড়েরা যখন বিশ্বকাপ জয়ের উদ্‌যাপনে ছুটছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠে বসে পড়েন বা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এরপর নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার নাম জড়িয়ে পড়ে উত্তেজনার ঘটনায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, পরে ঘটনাটি দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

স্কালোনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে এসেছে।
বিবিসির ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে অ্যালান শিয়ারার বলেন, হার কতটা কষ্টের তা বোঝা যায়, কিন্তু হারারও একটি পদ্ধতি আছে। জো হার্টও আর্জেন্টিনার আচরণকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, ফাইনালের হার শুধু ফলের কারণে নয়, আচরণের কারণেও আর্জেন্টিনাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এই আচরণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবি বোঝা যাবে না। ফাইনালের আগেই আর্জেন্টিনা ছিল চাপের মধ্যে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’, অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার ধরে উদ্‌যাপন করেন। সেই রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও ফিফা আর্জেন্টিনার আচরণ পর্যালোচনা করছিল বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

এটি সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার একক কারণ; এমন দাবি করার মতো প্রমাণ নেই। তবে বড় ফাইনালের আগে এমন বিতর্ক দলের চারপাশে বাড়তি আবেগ, চাপ ও মনোযোগ তৈরি করে। তার ওপর ছিল শিরোপা ধরে রাখার চাপ, মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, আর ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের মর্যাদা ধরে রাখার প্রত্যাশা।

এই সব চাপ নিয়ে যখন একটি দল এমন প্রতিপক্ষের সামনে পড়ে, যে প্রতিপক্ষ বল দখল, পাসিং ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে প্রায় নিখুঁত, তখন আবেগ অনেক সময় শক্তি না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

আর্জেন্টিনা ফাইনালে গোল খেয়ে হেরেছে; কিন্তু তার আগেই তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। ফিফার ম্যাচ রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। লামিনে ইয়ামালের শুরুর প্রচেষ্টা থেকে শুরু করে পাউ কুবারসি, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামসদের আক্রমণ; বারবার আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি গোল করা দল; ১৯ গোল। অথচ স্পেনের নিয়ন্ত্রণ এতটাই দৃঢ় ছিল যে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ের আগে একটি শটও নিতে পারেনি। ফিফার রিপোর্টে এটিকে স্পেনের নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

স্কাই স্পোর্টসের পরিসংখ্যান আরও কঠিন ছবি দেয়। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোনো শট লক্ষ্যে ছিল না। মেসি তিন ঘণ্টার ম্যাচে বল ছুঁয়েছেন মাত্র ৫৪ বার। আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল মাত্র ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা অপেক্ষায় ছিলেন; মেসি কখন বল পাবেন, কখন ঘুরে দাঁড়াবেন, কখন এক পাসে বা এক শটে ম্যাচ বদলে দেবেন। কিন্তু স্পেন সেই মুহূর্ত তৈরি হতে দেয়নি।

স্কাই স্পোর্টসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মেসি এই বিশ্বকাপে বারবার আর্জেন্টিনাকে টেনেছেন। কিন্তু ফাইনালে তিনি অদৃশ্য হয়ে পড়েন; পুরোটা তাঁর দোষ নয়; আর্জেন্টিনা তাঁর জন্য কার্যকর কিছু তৈরি করতেই পারেনি।

এখানেই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। মেসি খারাপ খেলেছেন; এই বাক্যটি পুরো সত্য নয়। বরং আর্জেন্টিনা মেসিকে খেলানোর মতো কাঠামোই তৈরি করতে পারেনি। মাঝমাঠ থেকে নিয়মিত বল আসেনি, সামনে দৌড় ছিল না, স্পেনের চাপের মধ্যে তিনি বারবার বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

মেসির এই বিচ্ছিন্নতা আর্জেন্টিনার পুরো আক্রমণকেই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। যে দল মেসির এক মুহূর্তের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল, সে দল যখন তাঁকে ম্যাচে আনতে পারে না, তখন আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ে।

ফাউল কেন বাড়ল
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফাইনালে বারবার ফাউলে জড়িয়েছেন। এর একটি কারণ ছিল হতাশা, আরেকটি ছিল স্পেনের গতি ও পাসিংয়ের সঙ্গে তাল রাখতে না পারা।

স্পেন যখন দ্রুত বল সরাচ্ছিল, আর্জেন্টিনার অনেক চ্যালেঞ্জ দেরিতে এসেছে। বলের আগে শরীর, পায়ের আগে প্রতিপক্ষ; এমন অবস্থায় ফাউল বেড়েছে। বড় ম্যাচে এটা শুধু আক্রমণ থামানোর কৌশল নয়; অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর লক্ষণও।

এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড ছিল সেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। রয়টার্স ও ফিফা; দুই সূত্রই জানিয়েছে, এনজোর লাল কার্ডের পর আর্জেন্টিনার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

১০ জনে নেমে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা আর ম্যাচ জিততে পারেনি; বরং পেনাল্টি পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টায় নেমে যায়। কিন্তু স্পেনের ধৈর্য শেষ পর্যন্ত ফল দেয়।

মার্তিনেজ লড়লেন, কিন্তু কাজ হল না 
এই ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফিফার রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পেনের চাপের মধ্যে তিনি বারবার দলকে বাঁচিয়েছেন। ইয়ামালের ফ্রি-কিকসহ বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে রেখেছিলেন তিনি।

কিন্তু গোলরক্ষক যতই ভালো খেলুন, আক্রমণ যদি শট নিতে না পারে, ফাইনাল জেতা যায় না। আর্জেন্টিনার সমস্যা ছিল সামনে। তারা বল রাখতে পারেনি, মেসিকে খুঁজে পায়নি, স্পেনের বক্সে ভয় তৈরি করতে পারেনি।

বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছে মার্তিনেজ পরিচিত নায়ক। এই ম্যাচেও তিনি একা লড়েছেন। কিন্তু একা গোলরক্ষক বিশ্বকাপ ফাইনাল বাঁচাতে পারেন, জিতিয়ে দিতে পারেন না; যদি সামনে দল জেগে না ওঠে।

ফাইনালের আরেকটি বড় পার্থক্য ছিল বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব। স্পেনের নিকো উইলিয়ামস ও ফেরান তোরেস বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচে নতুন গতি আনেন। দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, স্পেনের সাফল্যের বড় কারণ ছিল তাদের অভিযোজনক্ষমতা ও দলগত কাঠামো; বদলি খেলোয়াড়রাও সেই কাঠামোর ভেতরেই ম্যাচ বদলে দেন।

১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস নিকো উইলিয়ামস হেডে নামিয়ে দেন, আর ফেরান তোরেস প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে গোল করেন। ফিফা রিপোর্টেও বলা হয়েছে, মার্তিনেজের তখন আর কিছু করার ছিল না।

আর্জেন্টিনা যেখানে মেসির মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল, স্পেন সেখানে দলগত সমাধান খুঁজেছে। এটাই ফাইনালের সবচেয়ে বড় পার্থক্য।

বাংলাদেশের সমর্থকেরা যে আর্জেন্টিনাকে চেনেন, সেটি শুধু কৌশল নয়; এক ধরনের মানসিকতা। চাপের ম্যাচে দাঁড়িয়ে যাওয়া, শেষ দিকে তীব্রতা বাড়ানো, মেসির সঙ্গে বাকিদের সংযোগ, মার্তিনেজের সেভ, আর আবেগকে ফলাফলে বদলে দেওয়া।

ফাইনালে সেই ধারাবাহিকতা ছিল না। কারণ স্পেন ম্যাচটিকে আর্জেন্টিনার পছন্দের জায়গায় যেতে দেয়নি। ম্যাচ ভাঙেনি, খোলা হয়নি, বিশৃঙ্খল হয়নি। বরং স্পেন বল দখলে রেখে, আর্জেন্টিনাকে দৌড় করিয়ে, মেসিকে বিচ্ছিন্ন করে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে।

আর্জেন্টিনা যখন দেখল মেসি বল পাচ্ছেন না, শট আসছে না, সময় যাচ্ছে; তখন তাদের খেলায় অধৈর্যতা বাড়ে। সেই অধৈর্যতা প্রথমে ফাউলে, পরে লাল কার্ডে, শেষ বাঁশির পর হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

একক কারণ নয়, কয়েকটি ভাঙনের যোগফল
ফাইনালের আগে কী এমন হলো; এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এমন একক ঘটনার কথা পাওয়া যায় না, যা সরাসরি আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নষ্ট করেছে। বরং কারণ ছিল একাধিক।

প্রথমত, সেমিফাইনালের পর ফকল্যান্ড ব্যানার বিতর্ক দলকে বাড়তি নজরদারির মধ্যে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ত, শিরোপা ধরে রাখার চাপ এবং মেসির শেষ বিশ্বকাপ-আবেগ দলের ওপর মানসিক ভার বাড়িয়েছিল। তৃতীয়ত, স্পেনের বল দখল ও প্রেসিং আর্জেন্টিনার স্বাভাবিক খেলাকে বন্ধ করে দেয়। চতুর্থত, মেসিকে বল না দিতে পারা আর্জেন্টিনার আক্রমণকে ভেঙে দেয়। পঞ্চমত, এনজোর লাল কার্ড ম্যাচের শেষ পরিকল্পনাও নষ্ট করে দেয়।

এর সঙ্গে যোগ হয় ম্যাচ-পরবর্তী আচরণ, যা দেখিয়েছে; আর্জেন্টিনা শুধু ম্যাচ নয়, নিজের আবেগও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি।

আর্জেন্টিনা ফাইনাল হারল কারণ তারা গোল করতে পারেনি; এটা খুব সরল ব্যাখ্যা। আসল ব্যর্থতা আরও গভীরে। তারা মেসিকে খুঁজে পায়নি, স্পেনের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি, শট নিতে পারেনি, শেষ দিকে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারেনি।

স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আর আর্জেন্টিনা ফিরে গেছে তদন্ত, বিতর্ক ও হতাশা নিয়ে। মেসি পরে বলেছেন, এই হারের যন্ত্রণা অসীম এবং ক্ষত সারতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে তিনি সতীর্থদের টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার জন্য প্রশংসাও করেছেন।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরাও হয়তো একইভাবে এই হারকে দেখবেন; শুধু এক গোলের হার নয়, এক অচেনা রাতের ব্যথা হিসেবে। যে রাতে মেসি ছিলেন, মার্তিনেজ ছিলেন, আকাশি-সাদা জার্সিও ছিল; কিন্তু ছিল না সেই চিরচেনা আর্জেন্টিনা।

ঘোর ভাঙা এক সকাল এবং আনন্দময় ক্লান্তি...

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ৩:২২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঘোর ভাঙা এক সকাল এবং আনন্দময় ক্লান্তি...
আর অস্তগামী সেই সূর্যের ম্লান আলোয় এখন ছড়িয়ে আছে শুধুই একরাশ ক্লান্তি আর অবসন্নতা। 

ভোররাতের অ্যালার্ম ঘড়িটা আর বাজবে না, ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে চেয়ে থেকে চোখের পাতা আর ভারী হয়ে আসবে না।


উত্তেজনা নেই, উৎকণ্ঠা নেই। চারপাশটা বড্ড বেশি শান্ত, বুকের ভেতর এক অজানা শূন্যতা যেন হু হু করে উঠছে।
মনে হচ্ছে, কী এক ঘোরের মাঝে ছিলাম এতগুলো দিন!

দীর্ঘ এই মাসব্যাপী ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ কীভাবে যে জীবনের রোজনামচা বদলে দিয়েছিল, তা এখন ঘোর কাটার পর বুঝতে পারছি। উত্তর আমেরিকার মাঠের লড়াই আমাদের এখানে রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল।

রাতগুলো হয়েছিল দিন, আর দিনগুলো হয়েছিল শুধুই ফুটবলময়। 

আমাদের প্রতিদিনের রুটিন বলতে ছিল নিউজ পোর্টালের ডেস্কে বসা, প্রতি মুহূর্তের আপডেট, ম্যাচ প্রিভিউ আর বিশ্লেষণ। ঘুম নামক শব্দটা যেন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছিল দলের সকলের। তবুও কোনো অভিযোগ ছিল না। এক অদ্ভুত উত্তেজনা আর শিহরণ প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। কেন এমন হতো? হয়তো এটাই ফুটবলের জাদু, বিশ্বকাপের সম্মোহনী ক্ষমতা।

বিশ্বকাপ এমন এক উৎসব, যা কাউকে স্থির থাকতে দেয় না। পেশায় ক্রীড়া সাংবাদিক হওয়ার কারণে আমারদের দায়িত্বটা ছিল আরেকটু বেশি। প্রতিদিন এত এত লেখা, এত বিশ্লেষণ মাঝেমধ্যে মনে হতো মস্তিষ্ক বোধহয় আর কাজ করছে না। তবুও কিবোর্ড থেমে থাকেনি। বিশ্বকাপই যেন ভেতর থেকে তাগিদ দিয়ে প্রতিদিন লিখিয়ে নিয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজন একটি দিনের জন্যও ছুটি নেওয়ার কথা মাথায় আসেনি। প্রতিদিন পাঠকদের জন্য নতুন কিছু তুলে ধরার যে আনন্দ, তা সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিত। খেলা চলাকালীন প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করেছি, এই বিশ্বকাপ কতটা প্রভাব বিস্তারকারী।

বিশ্বকাপ তো শুধু একটা টুর্নামেন্ট নয়, এটি এক মিলনমেলা। বাংলাদেশ এই মহাযজ্ঞে নেই, কিন্তু আমাদের উন্মাদনার কোনো কমতি নেই। এই এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমরা অন্য দেশের হাসি-কান্নায় নিজেদের একাত্ম করে ফেলেছিলাম। তাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভুগোল, জীবনযাপনের নানা গল্প আমাদের ছুঁয়ে গেছে। আমরা নতুন করে বিশ্বকে চিনেছি, সমৃদ্ধ হয়েছি।

তবে সাংবাদিক হিসেবে একটি বিশ্বকাপের ধকল সামলানো নেহাত সহজ কথা নয়। টানা ৩৯ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিক যে চাপ গেছে, তা এখন বেশ ভালোই টের পাচ্ছে দলের সকলে। কিন্তু এই ধকলের সঙ্গে মিশে আছে গভীর এক ভালোবাসা। এতগুলো দিন বাংলানিউজের অগণিত পাঠকের সঙ্গে যে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তার কোনো তুলনা হয় না। আমাদের লেখাগুলো যারা কষ্ট করে, ধৈর্য নিয়ে পড়েছেন বা সমালোচনা করেছেন, সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

আবারও চার বছরের অপেক্ষা। এই চার বছরে বদলে যাবে অনেক কিছু। ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক জীবন সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই হয়তো আর আগের মতো থাকবে না। তবুও ফুটবল ফিরে আসবে তার আপন মহিমায়। সেই চিরচেনা রূপ-রস-মাধুর্য নিয়ে। আমরাও প্রহর গুনব ২০৩০ সালের আরেকটি বিশ্বকাপের জন্য।

আমির খান আবার বিয়ে করছেন, পাত্রী কে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আমির খান আবার বিয়ে করছেন, পাত্রী কে

আমির খান আবার বিয়ে করছেন, পাত্রী কে

নিজেকে ভাঙাগড়ার খেলায় মেতেছেন শাকিব খান। প্রতি ঈদে তিনি যেমন নতুন পরিচালকদের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তেমনি নিজেকে নিয়েও করছেন দেদার পরীক্ষা-নিরীক্ষা। শাকিব খান নিজেকে ভাঙছেন ঠিকই, কিন্তু পরিচালকেরা কি তাঁকে সেভাবে কাজে লাগাতে পারছেন? কথা হচ্ছিল ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া আজমান রুশোর সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে। টিজার, পোস্টার আর গান দিয়ে মুক্তির আগে যেভাবে সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ জাগিয়েছিলেন নতুন পরিচালক, সিনেমা হলে গিয়ে সেসবের প্রতিফলন কতটা দেখতে পেলেন দর্শক?


শাকিব খানকে নতুনরূপে দেখে অনেক দর্শক আনন্দ পেয়েছেন, সে কথা বলাই বাহুল্য। আগের সিনেমাগুলোতে (‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’, ‘প্রিন্স’) শাকিব খানকে দেখা গিয়েছিল অ্যাকশনের মেজাজে। প্রায় সব ছবিতে ছিলেন মেশিনগান হাতে। তবে ‘রকস্টার’ সিনেমায় তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন গিটার আর মাইক। সিনেমার একপর্যায়ে আগুন (শাকিব খান) বলেন, ‘এবার আমি মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে নিলাম।’ এটা যেন নিজেকে নিয়ে নিজেরই করা দারুণ এক মজা, যেমনটা ‘উৎসব’-এ করেছিলেন জয়া আহসান।শাকিব খানকে নতুনরূপে দেখে অনেক দর্শক আনন্দ পেয়েছেন, সে কথা বলাই বাহুল্য। আগের সিনেমাগুলোতে (‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’, ‘প্রিন্স’) শাকিব খানকে দেখা গিয়েছিল অ্যাকশনের মেজাজে। প্রায় সব ছবিতে ছিলেন মেশিনগান হাতে। তবে ‘রকস্টার’ সিনেমায় তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন গিটার আর মাইক। সিনেমার একপর্যায়ে আগুন (শাকিব খান) বলেন, 

‘এবার আমি মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে নিলাম।’ এটা যেন নিজেকে নিয়ে নিজেরই করা দারুণ এক মজা, যেমনটা ‘উৎসব’-এ করেছিলেন জয়া আহসান।শাকিব খানকে নতুনরূপে দেখে অনেক দর্শক আনন্দ পেয়েছেন, সে কথা বলাই বাহুল্য। আগের সিনেমাগুলোতে (‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’, ‘প্রিন্স’) শাকিব খানকে দেখা গিয়েছিল অ্যাকশনের মেজাজে। প্রায় সব ছবিতে ছিলেন মেশিনগান হাতে। তবে ‘রকস্টার’ সিনেমায় তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন গিটার আর মাইক। সিনেমার একপর্যায়ে আগুন (শাকিব খান) বলেন, ‘এবার আমি মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে নিলাম।’ এটা যেন নিজেকে নিয়ে নিজেরই করা দারুণ এক মজা, যেমনটা ‘উৎসব’-এ করেছিলেন জয়া আহসান।