‘বাংলাদেশে এলেই মনে হয় আপন মানুষদের কাছে ফিরেছি’—আতিফ আসলাম
ছবি - সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৮ বছর পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৩১ জুলাই প্রকাশ পেতে যাচ্ছে তার বহুল প্রতীক্ষিত অ্যালবাম ‘সুবাহ আয়ে না’। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দর্শকদের প্রতি নিজের ভালোবাসা, নতুন সংগীত পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতে বাংলা গান গাওয়ার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
আতিফ বলেন, প্রায় দুই দশক পর নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করতে পেরে তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তরা নতুন অ্যালবামের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
নতুন অ্যালবাম প্রকাশে এত দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সিনেমার গান, আন্তর্জাতিক কনসার্ট এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যস্ত সময় কাটানোর কারণে নিজের মতো করে অ্যালবাম তৈরির সুযোগ হয়নি। তবে এবার নিজের অনুভূতির গান নিয়েই শ্রোতাদের সামনে ফিরছেন।
আতিফের মতে, একজন শিল্পী হিসেবে নিজের অ্যালবামেই সবচেয়ে বেশি সৃজনশীল স্বাধীনতা পাওয়া যায়। কারণ সেখানে নিজের অনুভূতি ও ভাবনাকে স্বাধীনভাবে প্রকাশ করা সম্ভব। অন্যদিকে সিনেমার গান গল্প ও চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করতে হয়।
কোক স্টুডিও পাকিস্তানে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, এটি সবসময় নতুন কিছু করার একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম। নতুন শিল্পী ও নতুন সাউন্ড নিয়ে কাজ করার সুযোগ এখানেই সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের কোক স্টুডিওর কাজেরও প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কোক স্টুডিও যৌথভাবে কোনো প্রজেক্ট করলে তা সংগীতপ্রেমীদের জন্য বিশেষ কিছু হবে বলেও মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের দর্শকদের সম্পর্কে আতিফ বলেন, এখানকার মানুষ শুধু গান শোনেন না, গানকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন। কনসার্টে হাজারো মানুষ যখন একসঙ্গে তার গান গেয়ে ওঠেন, তখন সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান এই গায়ক। তিনি বলেন, দেশে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী রয়েছেন। সুযোগ পেলে তাদের সঙ্গে যৌথভাবে গান করতে চান।
বাংলা ভাষায় গান গাওয়ার প্রসঙ্গে আতিফ বলেন, আগে একটি বাংলা গান করলেও ভবিষ্যতে আরও গান গাইতে চান। তবে ভাষাটিকে আরও ভালোভাবে শিখে এবং যথাযথ সম্মান রেখেই নিয়মিত বাংলা গান করতে আগ্রহী তিনি।
বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে কিংবদন্তি রুনা লায়লার প্রতি নিজের বিশেষ শ্রদ্ধার কথাও উল্লেখ করেন আতিফ। তার ভাষায়, রুনা লায়লা শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো উপমহাদেশের গর্ব। তাঁর সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করা নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশে এলে সবচেয়ে বেশি কী উপভোগ করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আতিফ বলেন, এখানকার মানুষের আন্তরিকতা তাকে বারবার টেনে আনে। পাশাপাশি বাংলাদেশের খাবারেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে খিচুড়ি, বিরিয়ানি ও মালাই চা তার ভীষণ প্রিয়।
আতিফ আসলামের ভাষায়, “বাংলাদেশে এলেই মনে হয়, আপন মানুষদের কাছেই ফিরে এসেছি।”
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন