খুঁজুন
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

রেলবঞ্চিত ১৬ জেলাকে নেটওয়ার্কে আনছে সরকার, চলছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রেলবঞ্চিত ১৬ জেলাকে নেটওয়ার্কে আনছে সরকার, চলছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। নতুন রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যমান রেলপথ সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ৬৪ জেলায় রেলসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৪৮টি জেলা জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখনো ১৬টি জেলা রেলসেবার বাইরে রয়েছে। এ অবস্থায় প্রথম ধাপে রেলবঞ্চিত ১০টি জেলাকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর এবং লক্ষ্মীপুরে রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব জেলার সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ চলছে।

পরবর্তী ধাপে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ভোলা, নেত্রকোনা এবং মানিকগঞ্জকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা রেলপথ সম্প্রসারণে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে। যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ ছাড়া মধুখালী-মাগুরা রেললাইন সম্প্রসারণ, নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং শেরপুর হয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও কাজ এগিয়ে চলছে।

বরিশাল বিভাগেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন জেলাগুলোতে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এখনই বলা সম্ভব নয়। কারণ সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, রেলসেবা বঞ্চিত জেলাগুলোকে নেটওয়ার্কে আনতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। বর্তমানে অধিকাংশ প্রকল্পই সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এসব সমীক্ষা শেষ হলে ধাপে ধাপে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন চার শতাধিক যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী রেলে ভ্রমণ করেন এবং প্রায় এক কোটি টন পণ্য পরিবহন করা হয়। নতুন জেলাগুলো রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে যাত্রীসেবা ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৬-২০৪৫ মেয়াদের রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রেললাইন নির্মাণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ, কোচ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই পর্যায়ক্রমে দেশের সব ৬৪ জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নরসিংদীর শিবপুরে বিষ প্রয়োগে তিনটি গরু হত্যা, প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নরসিংদীর শিবপুরে বিষ প্রয়োগে তিনটি গরু হত্যা, প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি

ছবিতে মৃত গরু




আবু নাঈম রিপন | নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি :

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামে বিষ প্রয়োগে তিনটি গরু হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খামারির প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে গ্রামের রাজমিস্ত্রি মো. স্বপন মিয়া (৪২) প্রতিদিনের মতো গোয়ালঘর থেকে গরু বের করতে গিয়ে দেখতে পান, তার পালিত দুটি বাছুর ও একটি গাভিন গরু মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

খবর পেয়ে শিবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসক ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। প্রাথমিকভাবে তিনি জানান, বিষক্রিয়ার কারণেই গরুগুলোর মৃত্যু হয়েছে। তবে কে বা কারা রাতের আঁধারে গরুগুলোকে বিষ প্রয়োগ করেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে, গরুর মালিক মো. স্বপন মিয়া জানান, বিভিন্ন আইনি জটিলতার আশঙ্কায় তিনি শিবপুর মডেল থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে আগ্রহী নন।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

বহিরাগত নয়, নোবিপ্রবির শিক্ষককেই ট্রেজারার চান শিক্ষার্থীরা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বহিরাগত নয়, নোবিপ্রবির শিক্ষককেই ট্রেজারার চান শিক্ষার্থীরা

ছবিতে কর্মসূচির অংশ


নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবিতে) ট্রেজারার পদে বহিরাগত নয়, নিজ ক্যাম্পাসের শিক্ষক পরিষদ থেকেই ট্রেজারার নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষককে ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান।

রবিবার ( ২৬ জুলাই ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা এ দাবি সংক্রান্ত বিভিন্ন ফেস্টুন প্রদশর্ন করেন।


শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন কার্যক্রম। দক্ষ অ্যাকাডেমিশিয়ান, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও জুলাই আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রাখা শিক্ষকদের প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদটিতে নিয়োগের দাবি জানান তারা।  

তারা বলেন, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হওয়ার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বহিরাগত শিক্ষককে কেন এখানে ট্রেজারার পদে নিয়োগ দিতে হবে। যে সকল শিক্ষক বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্বে দিয়েছে, বিগত দিনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে, তাদেরকে মূল্যায়নের সময় এসেছে এখন। শিক্ষার্থীদের দাবি,
বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা কম থাকে। এবং নিজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করা হয়।

এছাড়াও নতুন কেউ দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বুঝতে বুঝতে তার অনেক সময় অতিবাহিত হয়, ফলে বুঝতে বুঝতে চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়ে আসার পর তিনি আবার চলে যান। তাই শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য লোককে ট্রেজারার নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হোক।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে আবাসন, সীমান্ত সুরক্ষা ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ১৪ হাজার ৯৭০ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে আটক করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে ৭ হাজার ৪৩৭ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৯৯১ জন সীমান্ত সুরক্ষা আইন এবং ৩ হাজার ৫৪২ জন শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের সময় আরও ১ হাজার ৬২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। একই সময়ে অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় ৩৩ জন ধরা পড়েছেন। আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়, পরিবহন বা সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ১৮ জনকে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, পরিবহন বা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে বলে আবারও সতর্ক করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধের তথ্য গোপনীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম