খুঁজুন
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ধামা ইলিয়াছের এক তথ্যেই ধরা পড়ল ডেভিড ইমনসহ ৪ শীর্ষ সন্ত্রাসী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ধামা ইলিয়াছের এক তথ্যেই ধরা পড়ল ডেভিড ইমনসহ ৪ শীর্ষ সন্ত্রাসী

ছবি : সংগৃহীত

 চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তে জানা যায়, তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২১টি মামলা রয়েছে।

এসপি মাসুদ আলম জানান, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), মো. শামীম (২৮) এবং মো. সাফায়েত হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অর্থায়ন এবং চক্রটির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ওয়ারিশ সনদে অনিয়ম, নারী ইউপি সদস্যকে শোকজ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ওয়ারিশ সনদে অনিয়ম, নারী ইউপি সদস্যকে শোকজ

অভিযুক্ত নারী ইউপি সদস্য তাহরিম আখতার জেমি; পাশে অভিযোগপত্র ও শোকজ নোটিশ।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহরিম আখতার জেমির বিরুদ্ধে ওয়ারিশ সনদ প্রদানে অনিয়ম, জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র তৈরিতে অনিয়ম এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি সালিশি ঘটনায় ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এক ব্যক্তি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ডা. মো. গোলাম মুর্শেদ মুরাদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাহরিম আখতার জেমির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই একই ব্যক্তির নামে ভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে দুটি ওয়ারিশ সনদ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং অপরটি ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইস্যু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট সদস্য প্রয়োজনীয় যাচাই না করেই সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলেও নোটিশে বলা হয়।

শোকজ নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হাসান মিয়া নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহরিম আখতার জেমি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র তৈরিতে সহযোগিতা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই ব্যক্তিদের নামে ভিন্ন ভিন্ন জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ব্যবহার করে দুটি ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব কাগজপত্র ব্যবহার করে রাজাবাড়ী মৌজার চিনাশখানিয়া গ্রামের একটি জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, মো. মনির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে একটি বিরোধ নিষ্পত্তির আশায় তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাহরিম আখতার জেমি তার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেন।

তার অভিযোগ, পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানো হয় এবং মিটার নামানোর বিষয়েও টাকা নেওয়া হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাকে গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

এ ঘটনায় মনির হোসেন শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহরিম আখতার জেমি। তিনি বলেন, “আমি টাকা নিয়েছি—এর প্রমাণ কী? কেউ অভিযোগ করলেই তো সেটা সত্য হয়ে যায় না। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন জানিয়েছে, শোকজের জবাব এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ফাঁসি দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত কাঠগড়ায় লতিফ সিদ্দিকী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফাঁসি দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত  কাঠগড়ায় লতিফ সিদ্দিকী

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১টার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতকে জানান, পরোয়ানার ভিত্তিতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে এবং আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হচ্ছে। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

শুনানির পুরো সময়জুড়ে কয়েকবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কথা বলার চেষ্টা করেন লতিফ সিদ্দিকী। তবে আদালত তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় তিনি কিছু বলতে পারেননি। বিচারকরা এজলাস ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও তিনি হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে বারবার বলেন, “মাননীয় আদালত, আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” কিন্তু বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য শোনা হয়নি।

এরপর কিছুটা আবেগাপ্লুত ও উত্তেজিত হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আদালতকে বলতে চাইলাম, ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইল না।”

এ সময় তিনি আরও বলেন, “হায়রে হায়, এই যদি হয় আদালত, তাহলে আমি কোথায় যাব?”

আদালতের নির্দেশের পর তাকে হাজতখানায় নেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। পুলিশ সদস্যরা বসতে বললে তিনি উচ্চস্বরে বলেন, “আমি বসে থাকবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো সেটা আমার বিষয়। তোমরা বলার কে?” পরে পুলিশি পাহারায় তাকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া ওকালতনামায় স্বাক্ষরের অনুমতি এবং ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করলে আদালত উভয় আবেদনই মঞ্জুর করেন।

শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “লতিফ সিদ্দিকী এ দেশের জন্মের সঙ্গে জড়িত একজন মানুষ। তার বয়স এখন ৮৭ বছর। যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে ফাঁসি দিন। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তাহলে তাকে খালাস দেওয়া হোক।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বরিশাল সিটির ৬৪৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বরিশাল সিটির ৬৪৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

 ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৪৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বাজেট ঘোষণা করেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

ঘোষিত বাজেটে নগর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, নারী ও শিশু কল্যাণ এবং ডিজিটাল নাগরিক সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, সীমিত রাজস্ব আয়ের মধ্যেও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কোনো ধরনের কর বৃদ্ধি ছাড়াই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং নারী-শিশুবান্ধব একটি স্মার্ট বরিশাল গড়ে তোলাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, গত অর্থবছরে বিসিসির মূল বাজেট ছিল ৫২০ কোটি ৮৬ লাখ ১৬ হাজার ৯২৮ টাকা। পরে সংশোধিত বাজেট দাঁড়ায় ৪৬২ কোটি ৮৬ লাখ ২২ হাজার ৮৩৭ টাকা। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয় বাজেট বক্তব্যে। জেলখাল, আমানতগঞ্জ, সাগরদী ও লাকুটিয়া খাল পুনঃখনন এবং খালের পাড় সংরক্ষণের জন্য ৭৬৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রশাসক।

এ ছাড়া কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিম তীরে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৫৩৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং অপচয় রোধের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করা হবে। বাজেট বাস্তবায়নে সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, কর বৃদ্ধি ছাড়াই আগের চেয়ে আরও উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবে বরিশাল সিটি করপোরেশন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম