শতবর্ষের চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগ, অবরুদ্ধ তিন পরিবার
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের ঘোষাল গ্রামে প্রায় এক শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের পথ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পথটি নিজেদের ক্রয়কৃত জমির অংশ দাবি করে ঘিরে দেওয়ায় তিনটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে তাদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যান বাড়ি থেকে বের করা বা বাড়িতে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘোষাল গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মিস্ত্রি ও তার পূর্বপুরুষসহ এলাকার বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ওই পথ ব্যবহার করে আসছেন। এলাকাবাসীর দাবি, পথটির পূর্ব প্রান্তের কিছু অংশ চেঁচুয়া গ্রামের নুরুল হক মিস্ত্রিদের পৈতৃক সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল। কয়েক মাস আগে ওই জমির ৮ শতক কিনে নেন চেঁচুয়া গ্রামের আছের দপ্তরির ছেলে মোক্তার দপ্তরি।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ জুলাই তিনি ওই জমিকে নিজের মালিকানাধীন দাবি করে পথজুড়ে বেড়া নির্মাণ করেন। এতে বিশ্বজিৎ মিস্ত্রি, বিষ্ণুপদ মিস্ত্রি ও অসীমা মিস্ত্রির পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাশের জমির মালিক রেজাউল নায়েব মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার পুকুরপাড় ঘেঁষে এক হাত জায়গা ছেড়ে দেওয়ায় আপাতত সেখান দিয়েই চলাচল করছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী বিষ্ণুপদ মিস্ত্রি বলেন, “এই পথ দিয়েই প্রায় ১০০ বছর ধরে আমাদের পরিবারের সদস্যরা চলাচল করে আসছেন। এখন পথ বন্ধ করে দেওয়ায় ভ্যান নিয়ে বের হতে বা বাড়িতে ফিরতে পারছি না। ভ্যান চালিয়েই সংসার চলে। ফলে আমাদের আয়-রোজগারও হুমকির মুখে পড়েছে।”
বিশ্বজিৎ মিস্ত্রি জানান, পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া, প্রয়োজনীয় মালামাল বাড়িতে আনা কিংবা পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তিনি দাবি করেন, পথ-সংক্রান্ত এই জটিলতার কারণে তার একটি বিয়েও ভেঙে গেছে।
সমস্যার সমাধান চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোক্তার দপ্তরি বলেন, “আমি যে জমি কিনেছি, সেখানে কেউ চলাচল করতে পারবে না। যদি পথ রাখতে হয়, তাহলে সমপরিমাণ জমি দিতে হবে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু হাসান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পথটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু মোক্তার দপ্তরি তা মানেননি। পরে বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদে এলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। তার ভাষায়, “দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।”
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, প্রশাসন যেন তদন্ত করে নির্ধারণ করে পথটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির অংশ, নাকি দীর্ঘদিনের জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ। একই সঙ্গে দ্রুত পথটি উন্মুক্ত করে তাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন