‘সর্বকালের সেরা’ মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসছেন সতীর্থরা
যোগফল প্রতিবেদক:
আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তার বিদায়ের খবরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন সতীর্থরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক বার্তায় প্রিয় অধিনায়ককে স্মরণ করছেন তারা।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি পেয়েছেন প্রায় সব ধরনের সাফল্য। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি গড়েছেন অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ড। তাই তার বিদায়ের ঘোষণা সতীর্থদের কাছেও যেন অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত।
মেসি তার বিদায়ী বার্তায় জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে তার দেওয়ার মতো আর কিছু নেই। তবে সতীর্থ নিকো পাজ যেন সেই কথাটি মানতেই নারাজ। মেসির পোস্টে মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, ‘না, লিওওও। তোমার দেওয়ার মতো আরও অনেক বাকি আছে।’
মেসির সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন কতটা ছিল, তা আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ। তার ভাষ্য, ছোটবেলায় মেসির সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ হবে কি না, সেটি ভেবে নিজের বয়সের সঙ্গে মেসির বয়স মিলিয়ে হিসাব করতেন তিনি।
সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়। শুধু মেসির সঙ্গে খেলার সুযোগই নয়, তার নেতৃত্বে বিশ্বকাপও জিতেছেন এনজো। তিনি স্মরণ করে লিখেছেন, ‘ভাগ্য ভালো যে তুমি ফিরে এসেছিলে... আমরা একসঙ্গে ক্যাম্প করেছি, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করেছি, কঠিন সময় পার করেছি এবং শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’
মেসিকে ছাড়া পরবর্তী জাতীয় দলের ক্যাম্প কল্পনা করাও কঠিন বলে জানিয়েছেন এনজো। তিনি বলেন, মাঠে মেসিকে আর ১০ নম্বর জার্সিতে না দেখার বিষয়টি অভ্যস্ত চোখের কাছে সহজ হবে না। ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অধিনায়ককে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ রদ্রিগো দি পলও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মেসির দেশের প্রতি ভালোবাসা, হার না মানার মানসিকতা এবং সতীর্থদের প্রতি তার আন্তরিকতার প্রশংসা করে তিনি তাকে ‘সর্বকালের সেরা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দি পলের ভাষায়, মেসি তাদের জীবনে অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত এনে দিয়েছেন এবং তিনি ‘অমর’।
আর্জেন্টিনার তারকা ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজও মেসির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মাঠের সাফল্যের বাইরেও মেসি সতীর্থদের অনেক কিছু শিখিয়েছেন।
লাউতারো বলেন, প্রতিটি ব্যর্থতার পর আবার ঘুরে দাঁড়ানো, নীরবে পরিশ্রম করা এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার শিক্ষা মেসির কাছ থেকেই পেয়েছেন তারা। তার নেতৃত্ব শুধু গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা শিরোপায় সীমাবদ্ধ ছিল না; জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রেও তিনি সতীর্থদের সামনে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।
মেসির সাবেক সতীর্থ আনহেল দি মারিয়া অবশ্য দীর্ঘ কোনো বার্তা দেননি। মাত্র তিনটি শব্দে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি—‘চিরকালীন ধন্যবাদ, অধিনায়ক।’
আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে মেসি বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জিতেছেন। ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দেশের ফুটবল ইতিহাসেও তৈরি করেছেন নিজের অনন্য অধ্যায়।
তাই মেসির বিদায়ে সতীর্থদের বার্তায় ফুটে উঠেছে একই অনুভূতি—তিনি শুধু একজন অধিনায়ক নন, আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন