খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

ময়মনসিংহে যুবকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন, হাসপাতালে মৃত্যু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ময়মনসিংহে যুবকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন, হাসপাতালে মৃত্যু

যোগফল প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরহাদের মৃত্যু হয়।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ফরহাদ হোসেন মধ্যহিস্যা এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি পেশায় সবজি বিক্রেতা ছিলেন। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টার দিকে নিজ বাসা থেকে বের হন ফরহাদ। কিছুদূর যাওয়ার পর একটি নির্জন এলাকায় পেছন থেকে একদল দুর্বৃত্ত তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে দেয়। পরে তাদের একজন তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

এতে ফরহাদের শরীরের নিচের অংশসহ সিংহভাগ ঝলসে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি জলাশয়ে লাফিয়ে পড়েন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে তাকে প্রথমে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ফরহাদের বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন, তার ছেলে মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচিসহ সামাজিক নানা আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। তারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরহাদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে এবং তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।

ওসি জানান, ফরহাদ পুলিশকে বলেছেন, বাসা থেকে বের হয়ে কিছুটা দূরে নির্জন স্থানে যাওয়ার পর পেছন থেকে একজন তার শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে দেন। এরপর অপর একজন আগুন ধরিয়ে দেন। তবে তাদের কাউকেই তিনি চিনতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, কী কারণে এবং কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জব্দ ৪০০ পিস ইয়াবা, মামলায় ১০ পিস—বাকি ৩৯০ পিস কোথায়?

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জব্দ ৪০০ পিস ইয়াবা, মামলায় ১০ পিস—বাকি ৩৯০ পিস কোথায়?

 যোগফল প্রতিবেদক:

গাজীপুরের গাছা থানায় মানিক নামে এক ব্যক্তিকে মাদকসহ গ্রেপ্তারের পর জব্দ করা ইয়াবা ও নগদ টাকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ৭০ হাজার টাকা জব্দ করা হলেও পরবর্তী সময়ে মামলায় মাত্র ১০ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় ঘুষ লেনদেন ও জব্দ করা মালামাল গোপনের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের এক এসআই ও স্থানীয় এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মানিকের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছা থানা পুলিশের একটি অভিযানে মানিককে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং পকেটে থাকা ৭০ হাজার টাকা জব্দ করা হয় বলে দাবি পরিবারের।

পরিবারের অভিযোগ, মানিককে থানায় নেওয়ার পর তাকে কঠোর ধারায় মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এসআই আল-আমিনের হাতে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনায় স্থানীয় এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও মধ্যস্থতার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মামলা হালকা করে দেওয়ার কথা বলে ওই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা নেন।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আটকের সময় জব্দ করা ৭০ হাজার টাকা, পরবর্তীতে দেওয়া ৮০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা এবং কথিত সাংবাদিককে দেওয়া ১০ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এরপর মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাত্র ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে মামলা করা হয় বলে পরিবারের দাবি।

এদিকে, পরিবারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী মোট অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ফলে আগের হিসাবে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও যোগফল অনুযায়ী তা ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হয়।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগ অনুযায়ী জব্দ করা ৪০০ পিস ইয়াবার মধ্যে বাকি ৩৯০ পিসের কী হয়েছে? এসব ইয়াবা সরকারি জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ কী, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা নগদ ৭০ হাজার টাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

মানিকের পরিবারের অভিযোগ, ছেলেকে বড় ধরনের আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করার আশ্বাসে তারা ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছেন। তবে টাকা দেওয়ার পরও ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হয়নি বলে তাদের দাবি।

পুলিশের মতো একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জব্দ করা মাদক কম দেখানো এবং নগদ টাকা গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই আল-আমিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৯২

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৯২

যোগফল প্রতিবেদক: 

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা বিভাগে দুজন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮৪ জন খুলনা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২০২ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ২৪১ জন, বরিশালে ১৭৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১ জন, রাজশাহীতে ১২২ জন, ময়মনসিংহে ৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮১ জন, রংপুরে ৫৪ জন এবং সিলেটে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৮ হাজার ৪৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৮৫৭ জন।

এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আরেক নারীকে মাথা থেঁতলে হত্যা, দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে আতঙ্ক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আরেক নারীকে মাথা থেঁতলে হত্যা, দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে আতঙ্ক

যোগফল প্রতিবেদক:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে হুসনে আরা খাতুন (৩৫) নামে এক যৌনকর্মীকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ১২ দিনের ব্যবধানে একই যৌনপল্লিতে দুই নারী হত্যার ঘটনায় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে যৌনপল্লির উজ্জ্বল মণ্ডলের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে হুসনে আরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হুসনে আরার ঘরে প্রবেশ করে। পরে ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাকী নামে যৌনপল্লির এক বাসিন্দা ঘরের দরজা খুলে হুসনে আরাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত হুসনে আরা খাতুন ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার মুক্তাগাছা এলাকার আবু তালেবের মেয়ে।

এ ঘটনায় নিহতের কথিত স্বামী ও পল্লির পল্লী চিকিৎসক মোস্তাককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে একই যৌনপল্লিতে সোনিয়া আক্তার নামে আরেক যৌনকর্মী কথিত প্রেমিকের মারধরে আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মারা যান। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরপর দুই নারী হত্যার ঘটনায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম