খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

পদ্মার পানি বাড়ার গতি কমলেও দুর্ভোগে অর্ধলাখ মানুষ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পদ্মার পানি বাড়ার গতি কমলেও দুর্ভোগে অর্ধলাখ মানুষ

 যোগফল প্রতিবেদক:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ৪০টি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছানোয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ। কোথাও কোথাও নৌকা ও ভেলাই হয়ে উঠেছে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। পানি ঢুকে পড়ায় চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। এর আগের দিন শুক্রবার একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার।

এর আগে এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছিল। বর্তমানে পানি বৃদ্ধির হার কমলেও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার মতো পানি এখনো কমেনি।

পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মায় দ্রুত পানি বেড়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

পানি বাড়ার ফলে দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এবং ফিলিপনগর ইউনিয়নের পদ্মার চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তবে গত দুই-তিন দিনের তুলনায় শনিবার পানি বৃদ্ধির তীব্রতা কিছুটা কমেছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের চারপাশে পানি থইথই করছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলাই এখন চলাচলের একমাত্র ভরসা। ইউনিয়নের ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের ৩৫১ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মরিচ ও কলাচাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি আরও বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।

এদিকে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়।

দুর্গত এলাকায় রান্নার স্থান ও নলকূপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব।

রামকৃষ্ণপুরের এক বাসিন্দা বলেন, ঘরের ভেতরে কোমরসমান পানি। পরিবারের অন্যরা উঁচু জায়গায় গেলেও তিনি মাচা বেঁধে কোনোমতে অবস্থান করছেন।

আরেক বাসিন্দা জানান, রান্নাবান্না বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছে। তার পাঁচ বিঘা জমির মরিচ পানিতে তলিয়ে গেছে। চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। বয়স্করা ঘরবন্দী হয়ে আছেন এবং সাপের ভয়ও রয়েছে।

দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। কাউকে সাপে কাটলে ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সিলেটে ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর বর্ণাঢ্য অভিষেক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিলেটে ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর বর্ণাঢ্য অভিষেক

ছবিতে প্রধান অতিথি

আফজাল মিয়া, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটে ডাক্তার জহিরুল ইসলাম (অচিনপুরী) প্রতিষ্ঠিত ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর সিলেট জেলা নতুন কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটস্থ প্যারালাক্স পার্টি সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যক্ষ শামছুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপদ চলাচল ও সড়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডা. জহিরুল ইসলামের উদ্যোগে এই স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে। নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ গড়ে তুলতে সংগঠনটি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, ‘নিরাপদ যাতায়াত আমাদের সবার দায়িত্ব।’ সকলের সচেতন পথচলা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্ক্রিন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সড়ক, রেল, বিমান ও নৌপথের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সিলেট বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চালক, পথচারী, যাত্রী, পরিবহন মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিষেকের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

মোটরসাইকেলে ঢাকা যাওয়ার পথে প্রাণ গেল সাংবাদিকের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মোটরসাইকেলে ঢাকা যাওয়ার পথে প্রাণ গেল সাংবাদিকের

 যোগফল প্রতিবেদক:

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় এশিয়া টেলিভিশনের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি কাজী আশরাফ (৪৬) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা মাহামুদুল হাসান অনিক নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গার মনসুরাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কাজী আশরাফ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামের কাজী শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে ব্যক্তিগত কাজে কাজী আশরাফ ও মাহামুদুল হাসান অনিক মোটরসাইকেলে করে লোহাগড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। মনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেলটির সঙ্গে একটি বাসের ধাক্কা লাগে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কাজী আশরাফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা জানান, সকালে মনসুরাবাদ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুজন আহত হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে পথে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

চরিত্র পেতে আপত্তিকর প্রস্তাব, ‘না’ বলেই এগিয়ে যান স্যান্ড্রা বুলক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চরিত্র পেতে আপত্তিকর প্রস্তাব, ‘না’ বলেই এগিয়ে যান স্যান্ড্রা বুলক

হলিউডে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে অভিনেত্রী স্যান্ড্রা বুলককে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অডিশন দিতে গিয়ে চরিত্র পাওয়ার বিনিময়ে আপত্তিকর প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি। এমনকি কয়েকজন তাকে সরাসরি পোশাক খুলতে বলেছিলেন বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন স্যান্ড্রা। তিনি জানান, নিউইয়র্কে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তখন নিয়মিত অভিনয়ের অডিশন দিতেন।

স্যান্ড্রার ভাষ্য অনুযায়ী, অডিশনে এমন কিছু পুরুষের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যারা চরিত্র পাওয়ার বিনিময়ে অশোভন প্রস্তাব দিতেন। কেউ কেউ তাকে সরাসরি ‘প্যান্ট খুলতে’ বলতেন। এসব পরিস্থিতিতে তার উত্তর ছিল স্পষ্ট—‘না, এই চরিত্র আমার জন্য নয়।’

তবে এমন অভিজ্ঞতা তাকে অভিনয়ের স্বপ্ন থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি। বরং সংগ্রামের সেই সময়েও কাজ পাওয়ার অনিশ্চয়তার ভয়কে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেছেন তিনি। তার উপলব্ধি ছিল, একজন সংগ্রামী অভিনেতার মনে সবসময়ই থাকে—হয়তো এরপর আর কোনো কাজ পাওয়া যাবে না। তাই সুযোগ পেলে সেটিকে কাজে লাগিয়েই সামনে এগোতে হয়।

ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর স্যান্ড্রা বুলক বুঝতে পারেন, একটি নির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যে আটকে থাকলে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের সামর্থ্য পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়। রোমান্টিক কমেডির মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেলেও একসময় এই পরিচিতিই তার জন্য সীমাবদ্ধতা হয়ে দাঁড়ায়।

১৯৯৫ সালের ‘হোয়াইল ইউ ওয়ার স্লিপিং’ ছবির মাধ্যমে রোমান্টিক কমেডিতে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এরপর ‘ফোর্সেস অব নেচার’, ‘টু উইকস নোটিশ’, ‘হোপ ফ্লোটস’ ও ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’র মতো ছবিতে অভিনয় করে বড় তারকা হয়ে ওঠেন তিনি।

কিন্তু জনপ্রিয়তার সেই ধারার বাইরে নিজেকে প্রমাণ করতে মধ্য ২০০০-এর দশকে রোমান্টিক কমেডি থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্যান্ড্রা। জেনিফার অ্যানিস্টনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, তখন সচেতনভাবেই মনে করেছিলেন—এবার তাকে অন্য ধরনের চরিত্রে কাজ করতে হবে।

এরপর ২০০৪ সালের ‘ক্রাশ’ ছবিতে ভিন্ন এক স্যান্ড্রা বুলককে দেখেন দর্শক। নাটকীয় এই ছবিতে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেন, শুধু রোমান্টিক কমেডির অভিনেত্রী হিসেবে নয়, গুরুতর চরিত্রেও নিজের দক্ষতা দেখাতে পারেন তিনি।

‘ক্রাশ’ সেরা ছবির অস্কার জেতে। ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য স্যান্ড্রা স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডে সেরা সম্মিলিত অভিনয়ের পুরস্কারও পান।

পরবর্তী সময়ে আবারও রোমান্টিক কমেডিতে ফেরেন স্যান্ড্রা। ২০০৯ সালে রায়ান রেনল্ডসের সঙ্গে ‘দ্য প্রোপোজাল’ ছবিতে অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়। একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘অল অ্যাবাউট স্টিভ’ অবশ্য প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।

তবে ওই বছরই ‘দ্য ব্লাইন্ড সাইড’ ছবিতে অভিনয় করে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন পান স্যান্ড্রা। ছবিটির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন তিনি।

এরপরও কমেডি ঘরানাকে পুরোপুরি বিদায় জানাননি এই অভিনেত্রী। ২০২২ সালে চ্যানিং ট্যাটামের সঙ্গে ‘দ্য লস্ট সিটি’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। মহামারির পর মুক্তি পাওয়া ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯২ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়।

ক্যারিয়ারের শুরুতে অপমানজনক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও সেসব অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে হলিউডে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন স্যান্ড্রা বুলক।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম