খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাঁথিয়ায় সেতু নির্মাণ নিয়ে বিরোধ, ঠিকাদারের শর্তভঙ্গ ও যুবদলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাঁথিয়ায় সেতু নির্মাণ নিয়ে বিরোধ, ঠিকাদারের শর্তভঙ্গ  ও যুবদলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ

ছবিতে নির্মাণাধীন সাঁথিয়ার সেতু

এম এ হাই |সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি:

পাবনার সাঁথিয়ায় ইছামতি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সাব-কন্ট্রাক্টর ও স্থানীয় যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়গুলো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে  বিরোধ দেখা দিয়েছে। 

অভিযোগে জানা যায়, ঠিকাদার হারুনর রশীদের বিরুদ্ধে সাব-কন্ট্রাক্টরদের সঙ্গে করা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, নির্মাণসামগ্রী আটকে রাখা এবং পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, নির্মাণকাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কয়েকজন যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।

এলজিইডির সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়ন ও খানমাহমুদপুর এলাকার ইছামতি নদীর ওপর ১২৪ দশমিক ২০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে ওই এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হবে। 

অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেতু নির্মাণের কাজ পরিচালনার জন্য ঠিকাদার হারুনর রশীদ এনামুল হক রহিম এবং মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করার বিষয়ে চুক্তি করেন। চুক্তির ভিত্তিতে তার  ঢাকা এবং রাজশাহী থেকে লোকবল ও প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী নিয়ে সাঁথিয়ায় এসে কাজ শুরু করে।
তবে কাজ শুরুর পর চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। 

সাব-কন্ট্রাক্টরদের অভিযোগ, পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে ঠিকাদার হারুন  চুক্তির শর্ত থেকে সরে যান। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী আটকে রেখে উল্টো তাদের কাছেই টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে থানায় অভিযোগ দেন। 

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নির্মাণকাজে শ্রমিক নিয়োগ ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ , জোড়করে অন্যের জমি ব্যবহার এবং স্থানীয় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবদল নেতা প্রতিবাদ ও প্রশ্ন তোলার পর তাদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি  স্থানীয় যুবদল নেতা বাবুল,মোক্তার,রাজিব,রুবেল এবং জাহিদের  বিরুদ্ধে। 

তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি কিংবা নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার সঙ্গে তারা জড়িত নন। বরং সেতু নির্মাণকাজের বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে এলজিইডি অফিস।এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো নথিতেও নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং কাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ দ্রুত নিরসন করে সেতুর কাজ স্বাভাবিক করা হোক। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থব্যয়, নির্মাণকাজের মান, চুক্তির শর্ত, নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার, জমি ও সড়ক ব্যবহারের বিষয়সহ উত্থাপিত সব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। জনস্বার্থে সেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করবে।

অনলাইন ডেস্ক 

সাভারে ইউপি প্রশাসকের বিরুদ্ধে ঘুষসহ নানা অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে ইউপি প্রশাসকের বিরুদ্ধে ঘুষসহ নানা অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকার সাভার উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সেলিম রেজাকে ঘিরে ঘুষ গ্রহণ, নাগরিক সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং একই সময়ে অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি। ছবিতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে বসে সেলিম রেজাকে টাকা গুনতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ছবিতে থাকা অর্থ ঘুষের টাকা কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্র ও একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেলিম রেজা উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার মূল কর্মস্থলে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন না। এতে ইউনিয়ন পরিষদের সেবাগ্রহীতার পাশাপাশি ব্যাংকের গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতার দাবি, অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাইলে তাদের দিনের পর দিন ঘোরানো হয়।

জামগড় এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করেন, আগে কয়েকশ টাকায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা গেলেও বর্তমানে কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে রশিদে দেখানো হচ্ছে তুলনামূলক কম টাকা। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথি, রশিদ ও আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনকারী এক অ্যাসেট নির্ধারককে ঘিরেও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। শিল্পকারখানার আয়তন কম দেখিয়ে সরকারি কর কম নির্ধারণ, বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কথিত দালালদের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়, সরকারি বরাদ্দ, প্রকল্পের অর্থ, ব্যাংক হিসাব ও ভাউচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এসব নথি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—একজন সরকারি কর্মচারী একই সময়ে কীভাবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চাকরি করছেন। তার নিয়োগ বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের অনুমোদন, দায়িত্ব পালনের সময়সূচি এবং মূল কর্মস্থলে উপস্থিতির রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্ত।

এ বিষয়ে তদন্তের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, সেবা প্রদানের রেজিস্টার, ট্রেড লাইসেন্সের রেকর্ড, কর নির্ধারণের নথি, ব্যাংকে উপস্থিতির রেকর্ড এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেলিম রেজার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। অন্যদিকে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আসে কি না এবং তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে—সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

যোগফল অনলাইন 

গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি
সাইফুল ইসলাম | গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে থাকা আসামি জামিনে বেরিয়ে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এতে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তহীনতায় ভূগছে। কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আসামি একই গ্রামের হারান বিশ্বাসের ছেলে বাবলু বিশ্বাস ।  

এ ঘটনায় মামলার আসামি ও তার সহযোগি সোহেল শেখ, অংশু বিশ্বাস এবং সুধাংশ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।

মামলা ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট উপজেলার হাতিয়াড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে ধর্ষণ করে একই প্রতিষ্ঠানের দপ্তরী বাবলু  বিশ্বাস । এতে ওই ছাত্রী অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। 

কাশিয়ানী থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে এবং পুলিশ ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত অভিযুক্ত বাবলু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। 

পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামী বাবলু বিশ্বাস কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে নিজে এবং লোকজন দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। 

মামলা প্রত্যাহার না করলে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি তার ৫ বছর বয়সি শিশু সন্তানকে অপহরণেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদী ও তার পরিবার। 

একই সঙ্গে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মামলার বাদী বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে এখন মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। আমার ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিচ্ছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।’

এ বিষয় অভিযুক্ত বাবলু বিশ্বাসের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার সহযোগি সোহেল শেখ হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’ 

কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক 

স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর ফ্যানের সঙ্গে ঝুললেন স্বামী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

প্রতীকী ছবি

যোগফল প্রতিবেদক | মানিকগঞ্জ :

এক ঘরে নিথর পড়ে আছে স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুসন্তানের মরদেহ। আর একই ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল স্বামী ইকরাম হোসেনের মরদেহ।

মুহূর্তেই একটি পরিবারের সব আলো নিভে গেল। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে শনিবার দুপুরে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ছায়া। 

মৃতদের মধ্যে গৃহকর্তা আকরাম নিজে। অন্য হলেন আকরামের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৪) ও তাদের মেয়ে আলিজা আক্তার। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইকরাম।

তবে কী কারণে এমন ভয়াবহ পথ বেছে নিলো এই পরিবার, তার কোনো উত্তর এখনো মেলেনি। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জান্নাকান্দি গ্রামের ইকরাম হোসেন কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। শনিবার দুপুরে তার বাড়ির ঘরের ভেতর স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশেই ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায় ইকরামের মরদেহ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদেশ থেকে ফেরার পর ইকরাম পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের কোনো বিরোধ কিংবা পারিবারিক কলহ চলছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

ফলে হঠাৎ একই পরিবারের তিনজনের এমন মৃত্যুতে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জান্নাকান্দি গ্রামের ওই বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যুতে হতবাক এলাকাবাসী।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি কীভাবে এবং কেন ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অনলাইন ডেস্ক