রামপালে দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) ক্ষমতার দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে চলতি অর্থবছরের পঞ্চম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় মোট ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
একনেকের তালিকায় থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোই এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবে উৎপাদিত বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প’ একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
স্থানীয় সরকার খাতের সাতটি প্রকল্পও রয়েছে একনেকের তালিকায়। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পাশাপাশি সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি তৃতীয় সংশোধনের জন্য একনেকে উঠছে। প্রকল্পটির ব্যয় আরও ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহার উপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চগড়ের একটি সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় আরও ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ দ্বিতীয় সংশোধনের জন্যও একনেকে উপস্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পে আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
তুৃুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম

আপনার মতামত লিখুন