বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে এমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় কমিটি
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সবার মতামত নিয়ে পর্যালোচনা করে এমন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়ন করতে চান, যেটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে এবং কারা এতে থাকবেন—এসব বিষয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব আসবে, সেগুলো পর্যালোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানে রাষ্ট্রপতিকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাখার বিষয়টি নিয়ে অতীতে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতিকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে না রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের বিষয়ে কমিটি বিভিন্ন মতামত সংগ্রহ করছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে প্রস্তাব আসতে পারে। এ ছাড়া সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে সহজে কেউ এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে না পারেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার
গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিচার দ্রুত করার দাবি রয়েছে। সরকার বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তরিক। বিচার স্বাধীনভাবে চলছে এবং নির্ধারিত আইন অনুযায়ী আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, তদন্ত, প্রসিকিউশন ও অভিযোগ গঠনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।
৬৩ জনের মতামত
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি, আহত জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৬৩ জন অংশ নেন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানে যথাযথভাবে ধারণ, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
আলোচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের উপযুক্ত অংশে স্থায়ীভাবে যুক্ত করার প্রস্তাব আসে। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আইনগত জটিলতা নিরসন, তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু করা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজনীতিতে তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আমন্ত্রিত অতিথিদের দেওয়া সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো কমিটির বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচনার বাইরে কারও লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতিথিরা জুলাই ও গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। বিশেষ করে জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবিধানের উপযুক্ত জায়গায় ধারণ করার বিষয়ে তারা মত দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও শক্তি যেভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্য করা আইনটি অধ্যাদেশ থেকে আইনে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কমিটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব আশা করা হচ্ছে। তাদের মতামত পাওয়ার পরই কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম

আপনার মতামত লিখুন