গৌরীপুরের ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলে ভয়াবহ আগুন
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, জমিদার আমলে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী নাট্যশালাটি পরবর্তী সময়ে ঝলমল সিনেমা হল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা হলটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে আসবাবপত্র তৈরির কারখানা ও গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ভবনের সামনের অংশে ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ও রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
কারখানার মালিক তাজ উদ্দিন ভুট্টো জানান, আগুন লাগার প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। আগুনে তার এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের কাঠ, নির্মাণাধীন আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে।
এলপিজি স্টোরের মালিক তানভীর আহমেদ জানান, সোমবার রাতে ২৫০টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারের একটি চালান গোডাউনে রাখা হয়েছিল। আগুনে সেগুলো সব পুড়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. খবিরুল আলম জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও সকালে ভবনের ভেতরের ফার্নিচার কারখানায় আবার আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে সেটিও নিয়ন্ত্রণে আনে।
গৌরীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বি এম কাউসার জামান জানান, ঝলমল সিনেমা হলটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। সিনেমা হল পরিচালনার জন্য সরকার এটি লিজ দিয়েছিল। বর্তমানে কারা এবং কীভাবে ভবনটি ব্যবহার করছে, পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম

আপনার মতামত লিখুন