তাজমিন হত্যাকাণ্ড: বাবাকে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েও বাঁচতে পারেনি কিশোরী
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৩) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার রাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে চালকের গতিপথ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন ও মেসেজ পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছিল তাজমিন। কিন্তু গভীর রাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় মেয়ের সেই আকুতি দেখতে পাননি। পুলিশের দাবি, নির্জন স্থানে নিয়ে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে অটোরিকশাচালক সুমন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে নামে তাজমিন। সেখান থেকে নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে তাজমিনকে একা পেয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে চালক সুমন। শহরের দিকে না গিয়ে সে অটোরিকশাটি ভিন্ন পথে চালাতে থাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন ও মেসেজ পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার কাছে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা সেই মেসেজ দেখতে পাননি। পরে অটোরিকশাটি বিজরা হয়ে রসুলপুর ও শিকারীপাড়া দিয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় যায়। সেখানে নির্জন স্থানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম থেকে চালক গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও পরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।
চার দিন ধরে নিখোঁজ ছিল তাজমিন
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। এরপর বুধবার রাতে তাকে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। সেখান থেকেই সে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে।
নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করার সুবাদে পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:

আপনার মতামত লিখুন