কাউখালীতে খালের ভাঙনে বিলীনের পথে ৮ গ্রামের যোগাযোগের সড়ক
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পিরোজপুরের কাউখালীতে খালের ভাঙনে বিলীনের পথে আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের হরিণধারা-গোপালপুর সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ৮০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ভেঙে খালের পানিতে মিশে গেছে। এতে অন্তত আটটি গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও টেকসই পাইলিং করা না হলে যেকোনো সময় সড়কটির সঙ্গে এসব গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নে সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে হরিণধারা খেয়াঘাটসংলগ্ন খালের পাড়ের রাস্তা থেকে পশ্চিম গোপালপুরের সরদারবাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
খালের ভাঙন অব্যাহত থাকায় সড়কটির অবশিষ্ট অংশও হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, জরুরি ভিত্তিতে খালের পাড়ে টেকসই পাইলিং ও সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে পুরো রাস্তাটি খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম আমড়াজুড়ি, রোঙ্গাকাঠি, গন্তব, হরিণধারা, গোপালপুর, হোগলা ও বেতকাসহ আশপাশের অন্তত আটটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী, বিভিন্ন পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।
এ পথ দিয়েই হরিণধারা খেয়াঘাটে পৌঁছে নদী পার হয়ে কাউখালী উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন ও সাবেক ইউপি সদস্য অনিল চন্দ্র বলেন, ‘এই রাস্তাটা আমাদের পুরো এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব সহজেই আমরা এ পথ দিয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারি। কিন্তু রাস্তাটি খালের গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। এখনই মেরামত ও পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা না হলে কয়েক দিনের মধ্যে আটটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।’
এ বিষয়ে আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি সবেমাত্র এই ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের জরাজীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন রাস্তাঘাটের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছি। হরিণধারা-গোপালপুর সড়কটির সমস্যা খতিয়ে দেখে দ্রুত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সড়কটি দ্রুত সংস্কার এবং খালের পাড়ে টেকসই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আটটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম

আপনার মতামত লিখুন