ধূলি জমে দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন কমছে ১৫ শতাংশ: গবেষণা
যোগফল প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সৌর প্যানেলে ধুলাবালির আস্তরণ জমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। নিয়মিত ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্যানেল পরিষ্কার রাখলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো সম্ভব বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
সম্প্রতি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে আসে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার।
পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ ৩৬টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
প্যানেল পরিষ্কারে বাড়বে উৎপাদন
গবেষণায় বলা হয়েছে, সৌর প্যানেলে ধুলাবালি জমার কারণে উৎপাদনক্ষমতা কমে যায়। নিয়মিত ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্যানেল পরিষ্কার রাখলে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অপরিষ্কার প্যানেল থেকে গড়ে ৩৮ থেকে ৪১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও পরিষ্কার করার পর তা ৪৯ থেকে ৫৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি মাঝারি আকারের প্যানেল ব্যবস্থার নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে মাসে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করলে অতিরিক্ত ৬ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে মাসে প্রায় ৫৬ হাজার ২৪ টাকা আয় হতে পারে। ব্যয় বাদ দেওয়ার পর মাসে নিট ১৬ হাজার ২৪ টাকা এবং বছরে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বাড়তি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিষ্কার করছেন অধিকাংশ ব্যবহারকারী
জরিপে অংশ নেওয়া শতভাগ ব্যবহারকারীই স্বীকার করেছেন, ধুলাবালির কারণে সৌর প্যানেলের কর্মক্ষমতা কমে যায়। তবে প্রায় ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ ব্যবহারকারী আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে প্রচলিত হাতে পরিষ্কারের পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
গবেষণাসংশ্লিষ্টদের মতে, সৌর প্যানেলের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংক্রিয় পরিষ্কারব্যবস্থা চালু করা গেলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকারিতাও উন্নত করা সম্ভব।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ কম
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৫২২ মেগাওয়াট। তবে গ্যাসসংকট ও জ্বালানি আমদানিতে ঘাটতির কারণে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৪ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পিক-টাইমে প্রতিদিন ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুতের মাত্র ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে। বিপরীতে বৈশ্বিক গড় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৫৮ মেগাওয়াট, যার মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদান প্রায় ৭৭ দশমিক ৫১ শতাংশ।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন উৎসের দূষণ থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া সূক্ষ্ম ধূলিকণা সৌর প্যানেলে জমে উৎপাদনক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সৌর প্যানেলের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন