সিরাজগঞ্জে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রোগীর খোঁজ নেওয়ার কথা বলে কাছে এসে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন অভিযুক্ত করিম সরকার। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত করিম সরকার উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে। তিনি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ডবয় হিসেবে কর্মরত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়ধুল কাশিয়াহাটা গ্রামের ওই নারী অসুস্থতা নিয়ে শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার ভোরে করিম নারী ওয়ার্ডে গিয়ে তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে চান। পাশাপাশি তাঁর ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কি না, তা জানতে চান। একপর্যায়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করলে ওই নারী চিৎকার করে মাকে ডাকেন এবং পরে নার্সকে বিষয়টি জানান। এর পরপরই ঘটনাস্থল থেকে চলে যান অভিযুক্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক ব্যক্তি দাবি করেন, এর আগেও করিমের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে তাঁর দাবি। এরপরও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘ওই ছেলে এসে আমার নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। আমার ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কি না, তা জানতে চায়। এসব বলতে বলতে কপালে ও গলায় হাত দেয়। পরে পিঠে হাত দিয়ে বুকে হাত দিয়ে বলে, আপনার প্রচুর জ্বর। তখন আমি চিৎকার করি। পরে বিষয়টি নার্সকে জানাই।’
হাসপাতালের অন্তর্বিভাগের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঘটনার পর তাঁরাও নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন। তাঁর ভাষ্য, হাসপাতালের নারী কর্মীদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারত।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল মুকিত বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত করিম সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জরুরি বৈঠকে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম

আপনার মতামত লিখুন