দারিদ্র্য বিমোচন ও বেকারত্ব দূরীকরণ এখন মুখ্য বিষয়
বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ছবি ফিচার লেখকঃ মোঃ মাহাবুবুর রহমান
দারিদ্র্য বিমোচন ও বেকারত্ব দূরীকরণ এখন মুখ্য বিষয়
ফিচার লেখকঃ মোঃ মাহাবুবুর রহমান
আমাদের দেশটি একটি উন্নয়নশীল দেশ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এদেশের বেশিরভাগ মানুষ আজও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। "নুন আনতে পান্তা ফুরোয়" - এই অবস্থা এখনও অনেক পরিবারের নিত্যদিনের চিত্র। এদেশের মূল দুটি সমস্যা হলো দারিদ্র্য ও বেকারত্ব।
১. বেকারত্বের ভয়াবহতা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বেকার ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পরিবারের হাল ধরে রাখা আজ পরিবার প্রধানদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমাদের দেশে চাকরির বাজারকে মোটা দাগে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
২. বৈষম্যের চিত্র: সরকারি বনাম বেসরকারি
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ে, পদোন্নতি হয়। কারো কারো আবার অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও আছে।
কিন্তু মরার উপর খরার ঘা হলো বেসরকারি ও কোম্পানিতে চাকরিরত ব্যক্তিদের জন্য।
এদের একদিকে বেতন কম, অন্যদিকে চাকরি হারানোর ভয়। সাথে আছে নানা ধরনের নির্যাতন। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নানা কৌশলে বেতন বাড়তে দেয় না। নতুন অজুহাতে টারমিনেট করার পথ খোলে।
অথচ দেশ গঠনে তাদের ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। হিসাব করলে দেখা যাবে দেশের বেসরকারি ও কোম্পানির চাকরিজীবীর সংখ্যাই সরকারি চাকরিজীবীদের চেয়ে অনেক বেশি। তাহলে তাদের প্রতি এত বৈষম্য কেন? তাদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি কেন?
৩. নিম্নমানের জীবনযাপন
এই শ্রেণির মানুষেরা বেশিরভাগ সময় অতি কষ্টে জীবনযাপন করে। তারা ভালো চালের ভাত খেতে পারে না। মাছ খেতে হলে সিলভার কার্প, পাঙ্গাস, তেলাপিয়াই ভরসা। কাপড় কিনতে মার্কেটে যেতে পারে না, ভ্যান থেকে স্বল্পমূল্যের কাপড় কিনতে হয়।
পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে ভালো চিকিৎসা নিতে পারে না। ফলে বিনা চিকিৎসায় বা অপচিকিৎসায় অনেকে ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু দেশের যেকোনো বিপদে, যুদ্ধে, দুর্যোগে সবাই মিলেই দেশকে রক্ষা করে। রক্ত দেয়। তাই বেসরকারি চাকরিজীবীদের সাথে বৈষম্য রাখা চলবে না। কোনোভাবেই তাদের অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা যাবে না।
৪. সমাধানের পথ
দারিদ্র্য বিমোচন ও বেকারত্ব দূরীকরণে এখনই ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে।
1. বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: উন্নত রাষ্ট্র থেকে বিনিয়োগ এনে নতুন শিল্প-কারখানা গড়তে হবে।
2. কৃষি-শিল্প-বাণিজ্য: কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যে বিপ্লব ঘটাতে হবে।
3. নীতির পরিবর্তন: যারা দেশ পরিচালনা করেন তাদের দারিদ্র্য বিমোচন ও বেকারত্ব দূরীকরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আমাদের লক্ষ্য একটাই - যাতে এদেশের একটি মানুষকেও বিদেশের সাহায্য বা ভিক্ষার দিকে হাত পাততে না হয়।
উপসংহার
দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করতে পারলেই দেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের মুখে হাসি ফুটবে। কারণ একটি সমৃদ্ধ দেশের স্বপ্ন দেখে এদেশের প্রতিটি মানুষ।
"দারিদ্র্য হটাও, বেকারত্ব ঘুচাও - উন্নত বাংলাদেশ গড়াও"

আপনার মতামত লিখুন