শ্রীপুরে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী'কে হ/ত্যার পর ৯৯৯ এ স্বামী'র ফোন
বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ছবি যোগফল
মো: সজিব | গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড চিনাশুখানিয়া এলাকার বড়চালা গ্রামে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সীমা রানী দাসকে ধারালো বটি দিয়ে কু*পিয়ে হ*ত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী উদ্ভব এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। গর্ভের শিশুটিকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের মাধ্যমে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নিহত সীমা রানী দাসের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। প্রায় দেড় বছর আগে ২৫ বছর বয়সী ওই যুবকের সঙ্গে ৩৫ বছর বয়সী সীমা রানীর প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে কলহের জেরে হঠাৎ স্বামী ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে সীমা রানীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ*ত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে স্ত্রীকে হত্যার কথা জানিয়ে পুলিশকে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহের পাশে তাঁকে বসে থাকতে দেখে। পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্তের বাবা নকুল জানান, তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত। তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই পুত্রবধূকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এলাকাবাসীর কয়েকজনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবনের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনগত তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সীমা রানী দাসকে মৃত অবস্থায় পেয়েছে। তাঁর গর্ভের শিশুটিকে বাঁচানোর আশায় দ্রুত উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন