৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ, চালু হয়নি সাটিয়াজুরী রেলস্টেশন
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
হবিগঞ্জের বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী সাটিয়াজুরী রেলস্টেশনের আধুনিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৯ লাখ টাকা। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো চালু হয়নি স্টেশনটির কার্যক্রম। ফলে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনা। অন্যদিকে, সন্ধ্যার পর স্টেশন এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আড্ডা বসার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে স্টেশন ভবন। ভাঙছে জানালার কাচ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অবকাঠামো। প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে ধান শুকানোর কাজে। স্টেশন এলাকায় অবাধে বিচরণ করছে গরু-ছাগল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই নির্জন এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আনাগোনা বাড়ে। দেখভালের ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি স্থাপনাটি কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নোমান, সাব্বির ও সোহান জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর স্টেশন এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আড্ডা জমে। স্টেশনটি চালু না থাকায় জায়গাটি নির্জন হয়ে পড়েছে। তাঁদের মতে, নিয়মিত ট্রেন চলাচল ও যাত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে স্টেশন এলাকায় মানুষের চলাচল বাড়বে। এতে মাদকের আড্ডা বন্ধ এবং স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
জানা গেছে, সাটিয়াজুরী রেলস্টেশনের নতুন ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৮ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬৮ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মেসার্স পাইওনিয়ার এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। তবে ভবন নির্মাণের পরও স্টেশনটির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় সরকারের বিপুল অর্থে তৈরি অবকাঠামো অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত সাটিয়াজুরী রেলস্টেশন একসময় আশপাশের শতাধিক গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এ স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করতেন। কৃষিপণ্য ও ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনেও স্টেশনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে স্টেশনটি বন্ধ ঘোষণা করা হলে এলাকাবাসী আন্দোলনে নামেন। তাঁদের আন্দোলনের মুখে সাময়িকভাবে স্টেশনটি চালু করা হলেও পরবর্তী সময়ে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি অচল থাকায় বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার যাত্রী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিকল্প পরিবহনে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে তাঁদের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্টেশনটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ হিসেবে ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এটিকে আধুনিক মডেল স্টেশন হিসেবে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও ট্রেন চলাচল ও স্টেশন পরিচালনা শুরু না হওয়ায় উদ্যোগটির সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বাহুবল উপজেলা দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, সাটিয়াজুরী রেলস্টেশন দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু এবং আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ বলেন, সাটিয়াজুরী স্টেশনটি ‘ডি-ক্লাস’ হওয়ায় অল্প জনবল দিয়েই পরিচালনা করা সম্ভব। তবে এ রুটে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় তা পুনরায় চালু না হলে স্টেশনটির কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক, যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন