চুনারুঘাটে শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও নারী সহকর্মীকে হয়রানির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ছয়শ্রী গ্রামের আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালেহ আহম্মদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নারী সহকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয় চলাকালে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে অফিস কক্ষে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন ওই শিক্ষক। সম্প্রতি ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাঁকে অফিসের টেবিলে বসে মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে দেখা যায়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় তাঁর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করার কথা ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, সালেহ আহম্মদকে মৌখিকভাবে ক্লাস নেওয়ার কথা বললেও তিনি গুরুত্ব দেন না। লিখিতভাবে আবেদন জানালে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শ্রেণিকক্ষে যান বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁর এমন আচরণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডেইজি রানী দাস অভিযোগ করে বলেন, “তিনি সব সময় আমাদের নারীদের ভিডিও করেন। আমার একজন সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করেছেন। বিদ্যালয়ের পাশে তাঁর বাড়ি হওয়ায় তিনি আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না এবং ক্লাস নিতেও আগ্রহী নন। কোনো কিছু বললে লিখিতভাবে দিতে বলেন।”
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সালেহ আহম্মদকে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক সালেহ আহম্মদ। কালবেলাকে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক ডেইজি রানী দাস আমাকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ভিডিও করেছেন। তিনি নিজেই নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে আসেন। এ বিষয়ে অভিযোগ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও পরিকল্পিত অভিযোগ তোলা হয়েছে।”
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয় কুমার হাজরা বলেন, সালেহ আহম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। তাঁকে ওই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে অন্য একটি বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং জানতে পেরেছেন, এটি কিছুদিন আগের। শ্লীলতাহানির মতো কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা মামলা করলে উপজেলা প্রশাসন তাঁকে সহযোগিতা করবে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তুলি আক্তার / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন