গ্যাসের চুলার শিখা কমলা হলে সতর্ক হোন, বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রতিদিনের রান্নাবান্নায় গ্যাসের চুলা ব্যবহার করেন অধিকাংশ মানুষ। তবে রান্নার সময় চুলার শিখার রঙের দিকে খুব একটা নজর দেওয়া হয় না। অথচ শিখার রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা দহনপ্রক্রিয়ায় সমস্যা কিংবা গৃহস্থালি নিরাপত্তার ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাসের চুলার শিখার রঙ জ্বালানির দহনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে শিখার বেশির ভাগ অংশ হলুদ বা কমলা থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
চুলার শিখা নীল হওয়া কেন স্বাভাবিক?
সাধারণত গ্যাসের চুলায় নীল শিখা দেখা গেলে তা ভালোভাবে দহনের লক্ষণ। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে গ্যাস সম্পূর্ণভাবে পুড়লে মূলত তাপ, জলীয় বাষ্প ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।
অন্যদিকে, শিখার বেশির ভাগ অংশ হলুদ বা কমলা হয়ে গেলে দহনপ্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকার আশঙ্কা থাকে। তবে বাতাসে ধুলাবালি, আর্দ্রতা কিংবা কিছু খনিজ কণার উপস্থিতির কারণেও সাময়িকভাবে শিখার রঙ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শুধু শিখার রঙ দেখেই চুলায় ত্রুটি রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
কেন কমলা বা হলুদ শিখা দেখা যায়?
গ্যাসের চুলায় কমলা বা হলুদ শিখা দেখা দেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন—
বার্নারে ময়লা জমা: দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় বার্নারের ছিদ্রে ময়লা জমতে পারে।
বাতাস চলাচলে বাধা: দহনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যেতে পারে।
বার্নারের ছিদ্র বন্ধ হওয়া: ছিদ্রে ময়লা জমলে গ্যাস ও বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে।
ধুলাবালি ও আর্দ্রতা: ঘরের বাতাসে থাকা কিছু কণা শিখার রঙে সাময়িক পরিবর্তন আনতে পারে।
যান্ত্রিক ত্রুটি: বার্নার বা গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা থাকলেও শিখার রঙ অস্বাভাবিক হতে পারে।
কার্বন মনোক্সাইডের ঝুঁকি কতটা?
গ্যাসের অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হতে পারে। এটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস, যা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা ও বিভ্রান্তি কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে। তবে শিখার রঙ পরিবর্তন হলেই যে বিপজ্জনক মাত্রায় এই গ্যাস তৈরি হচ্ছে, তা নিশ্চিত নয়।
চুলার শিখা দীর্ঘ সময় ধরে হলুদ বা কমলা থাকলে কিংবা কালির আস্তরণ জমতে দেখা গেলে চুলা পরীক্ষা করানো উচিত। সন্দেহজনক অবস্থায় চুলা ব্যবহার বন্ধ করে নিরাপদে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করুন এবং অভিজ্ঞ কারিগরের সহায়তা নিন। গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি।
গ্যাসের অপচয় ও বাড়তি খরচ
দহনপ্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকলে চুলা থেকে প্রত্যাশিত তাপ পাওয়া নাও যেতে পারে। এতে রান্না করতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং জ্বালানির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি ঘরের ভেতরের বাতাসও দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে শুধু শিখার রঙ দেখে গ্যাসের অপচয় বা বাড়তি বিল নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। এ জন্য চুলার সামগ্রিক অবস্থা ও দহনপ্রক্রিয়া পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
নিরাপদ থাকতে যা করবেন
গ্যাসের চুলার শিখার রঙের দিকে নিয়মিত নজর রাখুন। বার্নার ঠান্ডা হওয়ার পর প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিষ্কার করুন। গ্যাসের সংযোগ বা বার্নারে নিজে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মেরামতের চেষ্টা করবেন না।
গ্যাসের গন্ধ পেলে আগুন জ্বালাবেন না এবং বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করবেন না। নিরাপদে সম্ভব হলে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করুন এবং বাইরে থেকে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন। কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়া সন্দেহ হলে দ্রুত খোলা বাতাসে চলে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা নিন।
সামান্য সতর্কতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে গ্যাসের চুলা ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম

আপনার মতামত লিখুন