প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে যুবক আটক, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে নূর আলম নামে এক যুবককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতদিয়ার দুলাল বেপারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নূর আলম স্থানীয় আহমদ মাতব্বরের ছেলে। তিনি দৌলতদিয়া সিনেমা হল রোড এলাকায় মোবাইলসামগ্রীর ব্যবসা করেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নূর আলমের বাবা আহমদ মাতব্বর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে, ওই নারী এক প্রবাসীর স্ত্রী এবং তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই নারী ও নূর আলমকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে নূর আলমকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁর স্বজনেরা সেখানে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইম প্রামাণিক জানান, ঘটনার সময় তাঁরা কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গে ছিলেন। এ সময় এলাকার এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে ওই বাড়িতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার খবর পান তাঁরা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর ঘরের ভেতরে কেউ থাকার সন্দেহে দরজায় নক করেন। দরজা খোলার পর ঘরের ভেতরে নূর আলমকে দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।
সাইম প্রামাণিক আরও বলেন, পরে এলাকার মুরব্বি ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। একপর্যায়ে ঘরের দরজা ভেঙে নূর আলমকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিনি মাথায় আঘাত পান বলে দাবি করেন সাইম। পরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নূর আলমকে অন্য পথে সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান সাইম।
দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. রোকন উদ্দিন বেপারীও ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাতে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে জানতে পারেন, নূর আলমকে একটি ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে। পরে স্থানীয় মাতব্বর ও অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি। একপর্যায়ে নূর আলমের স্বজনেরা ঘরের দরজা ভেঙে তাঁকে বের করে নিয়ে যান। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে তাঁর হাত কেটে যায় বলে দাবি করেন রোকন উদ্দিন।
এদিকে, ঘটনার একটি ভিডিওতে গভীর রাতে কয়েকজন যুবককে ওই বাড়ির দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করতে দেখা যায়। পরে দরজা খোলার পর তাঁদের কয়েকজনকে ঘরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে খাটের নিচে এক যুবককে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি দিয়ে ঘটনার সব দিক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে নূর আলমের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কেউ অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম

আপনার মতামত লিখুন