আতঙ্কিত মানুষগুলোকে ব্যাংক-বীমার দিকে আবার এগিয়ে আনতে হবে
বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফিচার লেখক মাহবুবুর রহমান
মোঃ মাহাবুবুর রহমান | ফিচার লেখক :
আতঙ্কিত মানুষগুলোকে ব্যাংক-বীমার দিকে আবার এগিয়ে আনতে হবে
মানুষ এখন খাবে, নাকি সঞ্চয় করবে? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে মানুষের আয়ের রেশিও কমে গেছে। ভালো কিছু খাওয়ার টাকাই হাতে থাকে না। আর টাকা হাতে থাকলেও সেটা কোথায় জমাবে? কোথায় সঞ্চয় করবে? সেই জায়গাটাও এখন নিরাপদ মনে হচ্ছে না।
১. ব্যাংকের প্রতি আস্থার সংকট:
বিভিন্ন ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ঋণ দিয়ে বা দেশের বাইরে অর্থ পাচার করে আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আর ব্যাংকের এই ভুলের খেসারত দিচ্ছে সাধারণ গ্রাহক।
একদিকে গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা ফেরত পাচ্ছে না। আবার পেলেও সব টাকা একসাথে পাচ্ছে না। এই অনিশ্চয়তাই মানুষকে ভয়ানক আতঙ্কের মধ্যে ফেলেছে। ব্যাংকের প্রতি যে ভরসা ছিল, সেটা ভেঙে গেছে।
২. প্রযুক্তির আঘাতে পেশা ও আয়:
মানুষের আরেকটা আতঙ্ক হলো - কখন কোন পেশাজীবীর আয় কমে যাবে, তা বলা যাচ্ছে না। একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পাটের সিকা ঘরে ঘরে ছিল। এখন সেগুলো নেই। মোবাইলের কারণে ঘড়ি বিক্রি নেই, টেলিভিশনের বাজারও ছোট হয়ে গেছে। প্লাস্টিক এসে পাটের জায়গা দখল করেছে।
অনেক পেশা বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষগুলো বেকার। না আছে সংসার চালানোর ক্ষমতা, না আছে সঞ্চয় করার যোগ্যতা। নতুন প্রযুক্তি তাদের পুরনো করে বেকার করে দিয়েছে।
৩. বিকল্পও অনিরাপদ:
মানুষ ব্যাংকের বিকল্প হিসেবে বীমা ও এনজিওর দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু সেখানেও সমস্যা। ব্যাংক দেরিতে টাকা দেওয়ায় বীমা কোম্পানিগুলোও সময়মতো পেমেন্ট দিতে পারছে না। ব্যাংকের গাফিলতির দায় এসে পড়ছে বীমার ঘাড়ে।
আর পাবলিক লিমিটেড ব্যাংকের প্রতিই যখন মানুষের অভিমান, তখন এনজিওতে টাকা রাখবে কে?
৪. সমাধান কোথায়?
দেশের মানুষের হাত শক্তিশালী করতে হলে প্রথমে ব্যাংককে শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। ব্যাংকগুলো যেন কোনো রাজনৈতিক চাপে ভুল পথে বিনিয়োগ বা পাচার না করে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে জরুরি হলো - মানুষের মনে আবার আস্থা ফিরিয়ে আনা।
একইসাথে বীমার প্রচার বাড়াতে হবে। কারণ ব্যক্তি ও পরিবারের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বীমার কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রীয়ভাবে বীমার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে। জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর সমস্যা দূর করে মাঠকর্মীদের দক্ষ ও সৎ করে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষ কর্মীরাই মানুষকে বীমার দিকে, সঞ্চয়ের দিকে ধাবিত করতে পারবে।
আমার জানামতে অনেক মানুষ এখন আতঙ্কে ব্যাংক-বীমায় টাকা না রেখে বস্তায় ভরে ঘরে রাখছে। কিন্তু ঘরে টাকা রাখলে ব্যক্তি, পরিবার বা রাষ্ট্র - কারও উন্নয়ন হবে না। টাকা ব্যাংকে ঘুরলেই দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
উপসংহার:
মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয়, ভরসা দিয়ে ব্যাংক-বীমার দিকে ফেরাতে হবে। গ্রাহক বাঁচলে ব্যাংক বাঁচবে, ব্যাংক বাঁচলে রাষ্ট্র বাঁচবে। আর রাষ্ট্র বাঁচলে আমরাও ভালো থাকব।
"সঞ্চয় করুন, আস্থা রাখুন - ঘরের টাকা ব্যাংক ও জীবন বীমাতে রাখুন।

আপনার মতামত লিখুন