সৈয়দপুরে রেলের ৭০ একর জমি দখলমুক্তের উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রেলওয়ের দখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি পৌরসভার দখলে রয়েছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, প্রথমে রেলের প্রয়োজনে, পরে রাষ্ট্রের স্বার্থে এসব জমি ব্যবহার করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি অনেকটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এ নিয়ে সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জমিগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। রেলওয়ের যেসব জমি দখলে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে।
কারখানার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্বাচিত সরকার রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন এনে যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। রেলযাত্রার ঐতিহ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এ খাতের পরিসর আরও বাড়ানো দরকার। এটি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার।
রেলওয়ের দুটি কারখানাকে এই উদ্যোগের সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, তা পর্যালোচনা করতে তিনি সৈয়দপুরে এসেছেন। পরিদর্শনে কারখানার সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জেনেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি সরাসরি দেখেছেন এবং সেগুলোর মানও পরীক্ষা করেছেন।
মেরামতের অপেক্ষায় ৪০০ কোচ
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মেরামত করে পুনরায় সচল করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কিছু পুরোনো মেশিন রয়েছে, যেগুলো এখনো মানসম্পন্ন। তবে কোচ মেরামতের মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন।
কারখানাটির ঐতিহ্য তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে এ কারখানা গড়ে ওঠে। একসময় কারখানাটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। যে প্রয়োজন থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই প্রয়োজন এখনো রয়েছে, বরং বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী কারখানাটির উন্নয়ন হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, কোচ মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রাংশ এ কারখানায় তৈরি করা সম্ভব। একসময় এখানে প্রায় ১২ হাজার ধরনের পার্টস তৈরি হতো। বর্তমানে তা কমে ৬৫৪ থেকে ৬৫৫ ধরনের মধ্যে নেমে এসেছে। ফলে অনেক যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ কারখানাটিতে আরও বেশি যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
যৌথ ব্যবস্থাপনায় চলতে পারে ৯ রেলওয়ে হাসপাতাল
রেলওয়ে হাসপাতাল পরিচালনার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের পক্ষে হাসপাতাল পরিচালনা এবং চিকিৎসক-নার্সের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রায় নয়টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সৈয়দপুরে আবাসন সংকট নেই: রেলমন্ত্রী
সৈয়দপুরে রেলওয়ের আবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সেখানে রেলওয়ের প্রায় ২ হাজার ৪০০টি আবাসন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০০টিতে লোকজন থাকেন। তার মতে, সেখানে আবাসন সংকট নেই।
তিনি বলেন, পুরোনো ভবনের জন্য যে হারে ভাড়া কাটা হয়, তার চেয়ে কম টাকায় বাইরে ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। এ কারণে অনেকে রেলওয়ের আবাসনে থাকতে আগ্রহী নন।
অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন