খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ধনপুর ইউনিয়নে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন-জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ধনপুর ইউনিয়নে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন-জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময়

ছবি যোগফল

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

নয় ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ নানা দাবি, পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা ও ৫৮৮ নারীর মাঝে চাল বিতরণ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৩নং ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে সচেতনতামূলক ওয়ার্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ সখিনা আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিলন মিয়া। ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ইউনুস মিয়ার সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শ্যামলা রানী চৌধুরী।

সভায় ইউনিয়নের ১নং থেকে ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, অসম্পূর্ণ সড়কের কাজ সম্পন্ন, বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ স্থাপন, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আলোর ব্যবস্থা, খেলার মাঠ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি তুলে ধরেন। এ সময় ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ইউনুস মিয়া ধনপুর বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানান।

অন্যদিকে ৪নং ওয়ার্ডের কাটাখালী স্কুলের দক্ষিণ পাশ থেকে চাঁন্দারগাঁও বউ বাজার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। পাশাপাশি কেরামত আলী বাড়ি থেকে দক্ষিণ হিন্দুহাটি পর্যন্ত অসম্পূর্ণ রাস্তার নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। অন্যান্য ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিরাও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান।

সভায় রাজাপাড়াসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পরিবেশ, রাস্তাঘাট ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ সখিনা আক্তার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর বিষয়ে সচেতনতার আহ্বান জানান। এ সময় যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলার মাঠ নির্মাণ ও পুরোনো মাঠ সংস্কারের দাবিও উঠে আসে।

এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধনপুর ইউনিয়নের কাইতকোনা আমড়াঘরা কাশিপুর পূজামণ্ডপে নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ সখিনা আক্তার। এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অপরদিকে একই দিনে ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় ৫৮৮ জন উপকারভোগীর মাঝে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ সখিনা আক্তার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাইজুল ইসলাম এবং এসবিএসএস (SBSS) এনজিওর সুপারভাইজার সামিনা চৌধুরী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যবৃন্দ, বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার ও লুতফুর রহমান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, নয়টি ওয়ার্ডের জনগণের উত্থাপিত উন্নয়ন দাবিগুলো যাচাই-বাছাই করে আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ, মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ব্লুমিং সান স্কুলে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা: খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী ভাবনার সচিত্র রূপায়ণ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ব্লুমিং সান স্কুলে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা: খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী ভাবনার সচিত্র রূপায়ণ

ছবি যোগফল

শোয়েব হোসেন । ঢাকা:

শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের প্রয়োগে রূপ দেওয়ার প্রত্যয়ে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্লুমিং সান স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দিনব্যাপী ‘বিজ্ঞান মেলা-২০২৬’।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের সুপ্ত মেধা ও অনুসন্ধিৎসু মন বিকাশের লক্ষ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই আনন্দঘন মেলার আয়োজন করে।

​অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি এ. টি. এম. জসিম উদ্দিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে বাস্তব জীবনে বিজ্ঞানের উপযোগিতা বুঝতে পারাই প্রকৃত শিক্ষা। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক মনস্তত্ত্ব গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি অসাধারণ সব প্রকল্প দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

​মেলায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা পরিবেশ সুরক্ষা, বিকল্প শক্তি ও জীবনবিজ্ঞানের জটিল নানা বিষয় সহজভাবে ফুটিয়ে তোলে। বৈশ্বিকন জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় 'গ্রিন হাউজ ও পরিবেশ সুরক্ষা', ভবিষ্যৎ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় 'বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন' এবং রসায়নের ব্যবহারিক রূপ হিসেবে 'তড়িৎ বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রয়োগ' প্রকল্পগুলো সকলের বিশেষ নজর কাড়ে।

​এছাড়াও পরিবেশবান্ধব আধুনিক নগর পরিকল্পনার বার্তা নিয়ে 'টেকসই শহরায়ণ', উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির কৌশল ভিত্তিক 'আলোক ও অন্ধকার পর্যায়' এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় 'সুষম খাদ্য ও পুষ্টি সচেতনতা' বিষয়ক তথ্যবহুল প্রজেক্ট প্রদর্শিত হয়।

​বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আসিফ ইশতিয়াক এবং প্রধান শিক্ষক জনাব এইচ এম সাইফুল ইসলামের বলিষ্ঠ নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই বিজ্ঞান মেলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মেলা শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন দিগন্ত সূচনা করল।

পাইকগাছায় ১৫১ পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা; সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান এমপি ফাহমিদা হকের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ১৫১ পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা; সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান এমপি ফাহমিদা হকের

ছবি যোগফল

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির পর্যবেক্ষক দল এবং মন্দিরভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকেরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করবেন। সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো সুযোগসন্ধানী এই বন্ধন নষ্ট করতে না পারে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর অনুকূলে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলার ১৫১টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে সরকারি বরাদ্দের ডিও লেটার তুলে দেওয়া হয়।

ফাহমিদা হক বলেন, কয়রা-পাইকগাছার আর্থসামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও কালভার্ট নির্মাণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়ে ইতোমধ্যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। অবহেলিত এ অঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিচ্ছেন। অঞ্চলটিকে আধুনিকায়নে দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জনসাধারণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে। দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পাইকগাছা উপজেলার ১৫১টি শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপে প্রতিটিতে ৭ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪৭টি পূজামণ্ডপে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকেই এ দেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে আসছেন। দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, সবাই যেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা না করে দেশ গঠনে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, পাইকগাছা থানার ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম ইমদাদুল হক এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, শেখ রুহুল কুদ্দুস, সাজ্জাদ আহমেদ মানিক, তুষার কান্তি মণ্ডল, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রাণকৃষ্ণ দাশ, সদস্যসচিব হিমাদ্রি শেখর দে, পৌর সভাপতি বাবুরাম মণ্ডল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পৌর সভাপতি সন্তোষ কুমার সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক এবং বিভিন্ন যুব ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চিকিৎসাপ্রার্থীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

সাতকানিয়ায় মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাতকানিয়ায় মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানিহাট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। যানজট নিরসন ও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে নির্মিত বিভিন্ন দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে মহাসড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করতে চালক ও মালিক সমিতির নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম, কেরানিহাট ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মাহাবুবসহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দোহাজারী-বান্দরবান সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি বলেন, মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা এবং দোকানপাট গড়ে তোলায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ পথচারীদের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করা ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুনরায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, মহাসড়কের যেসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দোকানপাট বসানো হয়েছিল, সেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। দখলের কারণে অনেক স্থানে সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাতে আবারও অবৈধ দোকানপাট বসানো না হয়, সে বিষয়ে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এবারের উদ্যোগের ফলে আগের বছরের তুলনায় অবৈধ দোকানপাট পুনরায় বসানোর প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বান্দরবান বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্ছেদ অভিযানের আগে মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সড়ক নিরাপদ রাখা ও যানজট নিরসনই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তবে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। হকার রিদুয়ান বলেন, ছোট ছোট দোকান উচ্ছেদ করায় তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এসব দোকানই ছিল তাঁদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। দোকান ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প কর্মস্থলের ব্যবস্থা এবং নতুন করে জীবিকা শুরু করতে সহযোগিতার দাবি জানান।

তুলি আক্তার / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম