খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাদঘাট বাজারে প্রশাসনের অভিযান নিয়ে আতঙ্ক কেন, তদন্ত চান সচেতন মহল

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাদঘাট বাজারে প্রশাসনের অভিযান নিয়ে আতঙ্ক কেন, তদন্ত চান সচেতন মহল

ছবি যোগফল

আমির হোসেন | সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজারে প্রশাসনের অভিযানকে কেন্দ্র করে দোকানপাট বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে বাজারের ফার্মেসিগুলোর কার্যক্রম ও ওষুধ বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযান চলাকালে দোকান বন্ধ রাখার অভিযোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং বাজারের ওষুধের দোকানগুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। তবে কোন অভিযানে কতটি ফার্মেসি বন্ধ ছিল এবং কী কারণে সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে প্রশাসনের অভিযানের সময় ফার্মেসি বন্ধ রাখার অভিযোগ ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোতে বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে কি না, মেয়াদোত্তীর্ণ কিংবা অননুমোদিত ওষুধ মজুত বা বিক্রি করা হচ্ছে কি না এবং ওষুধ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মানা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগেও বাদাঘাট বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর বাজারের ওষুধ, মুদি ও কসমেটিকসসহ পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ২১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর বাদাঘাট বাজারের চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও মূল্যতালিকাসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সর্বশেষ পাওয়া প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাদাঘাট বাজারে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি দোকানে অননুমোদিত খাদ্যপণ্য, মসলা, আয়ুর্বেদিক পণ্যসহ ক্ষতিকর সামগ্রী মজুত ও বিক্রির অপরাধে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে এসব পুরোনো অভিযানের তথ্য দিয়ে বর্তমানে বাজারের সব ফার্মেসিতে অনিয়ম হচ্ছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ জন্য প্রয়োজন সরেজমিন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।

সচেতন মহলের মতে, ওষুধ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল কিংবা অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির সুযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী ফার্মেসিগুলো যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

এ অবস্থায় বাদাঘাট বাজারের সব ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স, ওষুধের মেয়াদ, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং অনুমোদিত পণ্য বিক্রির বিষয়গুলো যাচাই করতে উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযান পরিচালনার দাবি উঠেছে।

পাশাপাশি প্রশাসনের অভিযানের সময় কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে কি না, তা অনুসন্ধান করে প্রকৃত কারণ প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাইকগাছায় স্কাউট সমাবেশ পরিদর্শনে এমপি আবুল কালাম আজাদ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় স্কাউট সমাবেশ পরিদর্শনে এমপি আবুল কালাম আজাদ

ছবি যোগফল

এম. জালাল উদ্দীন | পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :

খুলনার পাইকগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭ম উপজেলা স্কাউট সমাবেশ-২০২৬। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সংসদ সদস্য উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত স্কাউটদের কুচকাওয়াজ ও প্যারেড উপভোগ করেন। এ সময় স্কাউটদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও অংশগ্রহণে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মেধা ও মানসিক বিকাশে স্কাউটের ভূমিকা অপরিসীম। স্কাউটিং তরুণদের আত্মনির্ভরশীল, দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রওশানারা পারভীন, একাডেমিক সুপারভাইজার মীর নূরে আলম সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জেলা ইউনিট সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানা, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাঈদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা জিএম বুলবুল আহমেদ, সেক্রেটারি মাওলানা আলতাফ হোসেন ও জামায়াত নেতা এ্যাডঃ মোর্তজা জামান আলমগীর রুলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটস পাইকগাছা উপজেলা শাখার কমিশনার মো. নুরুজ্জামান, উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আজহার আলী, উপজেলা শাখার সম্পাদক ও ডেপুটি কমিশনার রহিমা আখতার শম্পা, প্রোগ্রাম চিফ প্রদীপ কুমার শীল, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আলীম গাজী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ সরদার, প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল ওহাব, জেলা স্কাউট লিডার মো. আব্দুল্লাহ হাওলাদারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, স্কাউট লিডার ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

কপোতাক্ষের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি আবুল কালাম আজাদ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কপোতাক্ষের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি আবুল কালাম আজাদ

ছবি যোগফল

এম জালাল উদ্দীন | পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি :

খুলনার পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এ সময় নদীভাঙন রোধে জরুরি ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের মাহমুদকাটী খেয়াঘাটসংলগ্ন ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নদীভাঙনের কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে আবুল কালাম আজাদ বলেন, নদীভাঙন উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে। এতে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

তিনি বলেন, সামনে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম। এর আগেই নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। মাহমুদকাটীসহ আশপাশের ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জেলা ইউনিট সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানা, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা জিএম বুলবুল আহমেদ, সেক্রেটারি মাওলানা আলতাফ হোসেন, ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আতাউর রহমান, চেয়ারম্যান প্রার্থী মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান ও ডা. কালিদাস রায়সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী।

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টা: রিমান্ড শেষে আয়াশ ও রিমিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টা: রিমান্ড শেষে আয়াশ ও রিমিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্য-সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশ ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ আদেশ দেওয়া হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে আয়াশকে তিন দিন এবং রিমিকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার হিমেল তাদের আদালতে হাজির করেন। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জামিনের বিরোধিতা রাষ্ট্রপক্ষের

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সামনে দুর্গাপূজা থাকায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, ঘটনাটির পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তার মতে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কারাগারে রাখা উচিত।

শুনানিতে তিনি আসামি আয়াশের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবীর কথা-কাটাকাটি হয়।

এজলাসে আইনজীবীদের হাতাহাতি

শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবীকে জামায়াতের সমর্থক বলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতির কারণে বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে বিচারক এজলাস ছেড়ে যান।

পরে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে বিচারক আবার এজলাসে ওঠেন। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা বিচারকের কাছে ক্ষমা চান।

আসামিপক্ষের বক্তব্য

আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমনসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। আয়াশের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তার জামিন চান আইনজীবী। এ সময় আয়াশ নিজেও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কথা জানান।

অন্যদিকে, রিমির আইনজীবী আদালতকে বলেন, দেশের কবিদের ছবি নিয়ে গ্রাফিতি না থাকায় রিমি সেটি মোছার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি রিমির নারী পরিচয় ও ছোট সন্তান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে জামিনের আবেদন জানান। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকারী পুলিশ সদস্যের ভূমিকা যাচাইয়ের দাবিও তোলেন তিনি।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টা করেন একদল তরুণ। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে আয়াশসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে বাধা দিলে ওই নারী ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন বলে জানান। পরে আয়াশের নেতৃত্বে সেখানে স্লোগান দেওয়া হয়।

গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সেখানকার দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা হয়।

এরপর শুক্রবার ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এসব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ছবি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়েও আপত্তি জানানো হয়।

তুলি আক্তার / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম