বাদঘাট বাজারে প্রশাসনের অভিযান নিয়ে আতঙ্ক কেন, তদন্ত চান সচেতন মহল
ছবি যোগফল
ছবি যোগফল
ছবি যোগফল
ছবি যোগফল
ছবি সংগৃহীত
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্য-সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশ ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ আদেশ দেওয়া হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে আয়াশকে তিন দিন এবং রিমিকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার হিমেল তাদের আদালতে হাজির করেন। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সামনে দুর্গাপূজা থাকায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, ঘটনাটির পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তার মতে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কারাগারে রাখা উচিত।
শুনানিতে তিনি আসামি আয়াশের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবীর কথা-কাটাকাটি হয়।
শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবীকে জামায়াতের সমর্থক বলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতির কারণে বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে বিচারক এজলাস ছেড়ে যান।
পরে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে বিচারক আবার এজলাসে ওঠেন। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা বিচারকের কাছে ক্ষমা চান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমনসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। আয়াশের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তার জামিন চান আইনজীবী। এ সময় আয়াশ নিজেও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কথা জানান।
অন্যদিকে, রিমির আইনজীবী আদালতকে বলেন, দেশের কবিদের ছবি নিয়ে গ্রাফিতি না থাকায় রিমি সেটি মোছার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি রিমির নারী পরিচয় ও ছোট সন্তান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে জামিনের আবেদন জানান। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকারী পুলিশ সদস্যের ভূমিকা যাচাইয়ের দাবিও তোলেন তিনি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টা করেন একদল তরুণ। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে আয়াশসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে বাধা দিলে ওই নারী ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন বলে জানান। পরে আয়াশের নেতৃত্বে সেখানে স্লোগান দেওয়া হয়।
গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সেখানকার দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা হয়।
এরপর শুক্রবার ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এসব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ছবি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়েও আপত্তি জানানো হয়।
তুলি আক্তার / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
আপনার মতামত লিখুন