মা হারা শিশু আব্দুল্লাহকে কোলে নিয়ে আবেগাপ্লুত শেরপুরের ডিসি
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তিন মাস বয়সী মা হারা এতিম শিশু আব্দুল্লাহকে কোলে তুলে নিয়ে স্নেহ-মমতায় ভরিয়ে দিলেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন। মায়ের মৃত্যুর পর দাদা-দাদির কাছে বেড়ে ওঠা শিশুটির নিষ্পাপ হাসি আর মায়াভরা চাহনি ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সবার হৃদয়। জেলা প্রশাসকের কোলে শিশুটির স্নেহমাখা মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গণশুনানিতে এ হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গণশুনানি চলাকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মা হারা শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন তার স্বজনেরা। তারা জেলা প্রশাসকের বিপরীত পাশের একটি চেয়ারে বসেছিলেন। এ সময় শিশুটি বারবার জেলা প্রশাসকের কোলে ওঠার জন্য হাত বাড়াতে থাকে।
শিশুটির এমন আকুতি দেখে তাকে কোলে তুলে নেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। আদর করার পাশাপাশি শিশুটির সঙ্গে কিছুক্ষণ খুনসুটিতে মেতে ওঠেন তিনি। পরে প্রশাসনিক কাজে ফিরে যেতে শিশুটিকে কোলে থেকে নামানোর চেষ্টা করেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু আব্দুল্লাহ কিছুতেই কোলে থাকার আবদার ছাড়তে চাইছিল না। এভাবে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে স্নেহ আর খুনসুটি।
একপর্যায়ে শিশুটিকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে আব্দুল্লাহ। শিশুটির কান্না দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জেলা প্রশাসকও। তার চোখের কোণে জমে ওঠে পানি। উপস্থিত অনেকেই এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে তা নিজেদের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার মাতৃসুলভ স্নেহ, মমতা ও মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন নেটিজেনরা।
শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, শিশুটির মায়াভরা মুহূর্তটি উপস্থিত কর্মকর্তা ও গণশুনানিতে আসা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত শিশুটি যেন অন্য এক মায়ের কোলে সাময়িকভাবে সেই স্নেহ খুঁজে পেয়েছিল।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাকিল আহাম্মেদ বলেন, মুহূর্তটি স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো। অবুঝ শিশুটিকে কোলে থেকে নামিয়ে দেওয়া সত্যিই কষ্টের ছিল। সেখানে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটি অন্য এক মায়ের কোলে উঠে যেন নিজ মাকে অনুভব করছিল।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিজেও একজন মা। যেকোনো শিশুর প্রতিই তার বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। তাই আব্দুল্লাহর বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি নিয়মিত শিশুটির খোঁজখবর রাখবেন বলেও জানান।
মাকে হারিয়ে দাদা-দাদির কাছে আব্দুল্লাহ
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে আব্দুল্লাহর মাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই সময় আব্দুল্লাহ মায়ের কোলে বসে দুধ পান করছিল। মাত্র দেড় মাস বয়সে মাকে হারানো শিশুটি বর্তমানে তার দাদা-দাদির কাছে রয়েছে।
তিন ভাইবোনের মধ্যে আব্দুল্লাহ সবার ছোট। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত এই শিশুর প্রতি জেলা প্রশাসকের এমন মমতাপূর্ণ আচরণ উপস্থিত মানুষের মনে গভীর আবেগের সৃষ্টি করেছে।
তুলি আক্তার / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন